বগুড়ায় হ্যাচারিতে দেশি মাছের রেণুপোনা উত্পাদন

চাষে আগ্রহ বাড়ছে

স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া

বগুড়ায় হ্যাচারিতে হচ্ছে দেশি প্রজাতির মাছের রেণুপোনা উত্পাদন। কাহালু উপজেলার মাছ ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম তার হ্যাচারিতে রেণুপোনা উত্পাদন করছেন দীর্ঘদিন ধরে। তাকে অনুসরণ করে অনেকেই রেণুপোনা উত্পাদন শুরু করেছেন। ১৯৯০ সালে নিজেদের একটি পুকুরে মাছ চাষ করার পাশাপাশি রেণু উত্পাদন শুরু করেছিলেন। ১৯৯৭ সালের দিকে স্থানীয় মত্স্য বিভাগ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে আবার রেণু উত্পাদন শুরু করেন। এরপর থেকে লাভের মুখ দেখতে থাকেন। এক একর জায়গা জুড়ে রয়েছে হ্যাচারির কার্যক্রম।

স্থানীয় মাছচাষি ও ইউপি চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন বলেন, শফিকুলের দেখানো পথ ধরেই প্রায় বিলুপ্ত হওয়া দেশি প্রজাতি মাছের চাষ এখানে অনেকেই শুরু করেন। তার দেখাদেখি কাহালু উপজেলার ছোট-বড় ১৬টি হ্যাচারির মধ্যে প্রায় সবগুলোতেই উত্পাদিত হচ্ছে দেশি প্রজাতি মাছের রেণুপোনা। ২০০২ সাল থেকে কয়েক বার তিনি এ জন্য জাতীয় পদক পেয়েছেন।

শফিকুল ইসলাম তার রেণু উত্পাদন ব্যবসার ব্যর্থতা-সফলতার গল্প বলতে গিয়ে বলেন, মানবদেহে স্বাস্থ্যের কোনো ক্ষতি যেন না হয়, সে জন্য ফিড মিলগুলোতে নজরদারি                 রাখা উচিত, যাতে মানবদেহের ক্ষতিকারক মাছের খাদ্য তারা তৈরি করতে না পারে। তিনি মনে করেন, দেশে মাছের উত্পাদন আরো বৃদ্ধি করতে হলে সরকারি খাল, বিল, পুকুর ও জলাশয়গুলো সংস্কার ও খনন করা প্রয়োজন। সরকারিভাবে দ্রুত এই পদক্ষেপ নিলে                 রাজস্ব আয় বৃদ্ধিসহ মাছের উত্পাদন অনেক বেশি হবে।

কাহালু উপজেলা সিনিয়র মত্স্য কর্মকর্তা মাহমুদা খাতুন বলেন, শফিকুল ইসলাম কাহালু উপজেলায় দেশি মাছসহ বিভিন্ন মাছের রেণুপোনা উত্পাদন করে সফল হয়েছেন। রেণুপোনা উত্পাদনের ক্ষেত্রে মাছের গুণমান সব সময় ঠিক রাখেন তিনি। রেণুপোনার গুণমান ভালো হলে মাছের উত্পাদনও ভালো হয়।

জেলা মত্স্য কর্মকর্তা সরকার আনোয়ারুল কবীর জানান, বগুড়া জেলায় মাছের উত্পাদন গত বছর হয়েছে প্রায় সাড়ে ৮৪ হাজার মেট্রিক টন, যা মোট চাহিদার চেয়ে ৯ হাজার ৮৪০ মেট্রিক টন বেশি। জেলায় গত বছর মাছের চাহিদা ছিল ৭৪ হাজার ৪৭৯ মেট্রিক টন। মাছ উত্পাদনের পাশাপাশি রেণু উত্পাদনও বেড়েছে। এর মধ্যে শফিকুল ইসলামের হ্যাচারিতে সবচেয়ে বেশি গুনমানের রেণু উত্পাদন হয়েছে।