চাটমোহর (পাবনা) সংবাদদাতা
অব্যাহত লোকসানের কারণে গত বছর দেশের ছয়টি চিনিকলের উত্পাদন বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। বন্ধ চিনিকলগুলোর মধ্যে পাবনা চিনিকল একটি। এদিকে চিনিকল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন পাবনা জেলার আখচাষিরা। চিনিকল বন্ধ থাকায় অধিকাংশ কৃষক আখের আবাদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেও পাবনার বিভিন্ন উপজেলার অনেক কৃষক আশায় বুক বেঁধে আখের আবাদ করেছিলেন। কিন্তু এখন তাদের উত্পাদিত আখ মিলে সরবরাহ করা নিয়ে পড়েছেন বিপাকে। ফলে খোলাবাজারে আখ বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
মিল বন্ধ থাকায় এ বছর পাবনা চিনিকল এলাকার কৃষকদের উত্পাদিত আখ সরবরাহের দায়িত্ব নিচ্ছে না চিনিকল কর্তৃপক্ষ। পাবনার নিকটবর্তী গোপালপুর চিনিকলে গত বছর কৃষকেরা আখ সরবরাহ করতে পারলেও এ বছর এখনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা পাননি চাষিরা। যে কারণে আখ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা।
এদিকে পাবনা সুগার মিল বন্ধ থাকলেও চাটমোহর উপজেলার আখচাষিরা বিকল্প পথ খুঁজে বের করেছেন। উপজেলার সব হাটবাজারে আখ বিক্রির ধুম পড়েছে। তৈরি করা হচ্ছে আখের গুড়। উপজেলার রেলবাজার, মূলগ্রাম, ফৈলজানা, শরত্গঞ্জ, মহেলা, ছাইকোলা, বামনগ্রাম, মির্জাপুর, হান্ডিয়াল, হরিপুর, মথুরাপুর হাটসহ বাজারগুলোতে দেখা গেছে আখ বিক্রি। শতাধিক আখ বিক্রেতা খুচরা আখ বিক্রি করছেন।
হরিপুর এলাকার আখচাষি আ. মুতালিব জানান, এ বছর দুই বিঘা জমিতে আখ চাষ করেছেন তিনি। মিলে আখ দিতে না পারায় জমি থেকেই ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করছেন। ১০০ আখের দাম পাওয়া যাচ্ছে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা। এতে লাভই হবে বলে তিনি জানান। চাটমোহর পুরাতন বাজারে আখ বিক্রেতা আবেদ আলী জানান, প্রতিটি আখ ২০/২৫ টাকায় বিক্রি করছি। ক্রেতার অভাব নেই। লাভও ভালো হচ্ছে। প্রতিদিন একেক জন বিক্রেতা ১০০-১৫০ আখ বিক্রি করেন। আখের রস বিক্রেতা আ. মজিদ জানান, এক গ্লাস আখের রসের দাম ১০ টাকা। প্রতিদিন ২০০-৩০০ গ্লাস রস বিক্রি করা যায়।
এ ব্যাপারে চাটমোহর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল্লাহ আল মাসুমবিল্লাহ জানান, চলতি বছর উপজেলায় ১৫ হেক্টর জমিতে আখের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে মিল জোনে ১০ হেক্টর। মিল বন্ধ থাকায় চাষিরা নানাভাবে আখ বিক্রি করার চেষ্টা করছেন। কেউ আবার গুড় তৈরি করছেন।