বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট সীমিত শক্তির ঘূর্ণিঝড় ‘গুলাব’ গতকাল রাতে ভারতের ওড়িশার গোপালপুর ও অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমের মাঝে কলিঙ্গপত্তনমের কাছে উপকূলে আছড়ে পড়ে। অন্ধ্রপ্রদেশের উত্তর ও ওড়িশার দক্ষিণ উপকূলবর্তী এলাকায় অতি ভারী বর্ষণের শঙ্কার ‘রেড ওয়ার্নিং’ জারি করেছে। অন্যত্র ‘কমলা সতর্কতা’ জারি করেছে ভারত। রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, ওড়িশা ও অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলীয় এলাকা থেকে ইতিমধ্যে লক্ষাধিক মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। উদ্ধার ও ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ভারতীয় নৌবাহিনী জাহাজ ও এয়ারক্র্যাফট প্রস্তুত রেখেছে কর্তৃপক্ষ। গুলাব আছড়ে পড়ার সময় বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৯৫ কিলোমিটার থাকার কথা জানিয়েছে ভারতের আবহাওয়া দপ্তর ।
বাংলাদেশের উপকূল ভাগ থেকে অনেক দূরে অবস্থান করায় ঘূর্ণিঝড়ের সরাসরি প্রভাব দেশে না পড়লেও বৃষ্টিবাদলের হাত থেকে রেহাই মিলছে না। গতকাল রবিবার সন্ধ্যার পর থেকে বৃষ্টি হচ্ছে উপকূলের জেলাগুলোতে।
আবহাওয়া বিজ্ঞানী সুনিথা দেবি টাইমস অব ইন্ডিয়াকে জানান, স্থলভাগে উঠে আসার পরও প্রায় একই গতি নিয়ে ছয় ঘণ্টার মতো তাণ্ডব চালাবে গুলাব। তারপর ধীরে ধীরে আরো উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে সোমবার শক্তি হারিয়ে ফেলবে। প্রথমে স্থল নিম্নচাপ ও পরে লঘুচাপে পরিণত হয়ে শান্ত হবে। আর উপকূল অতিক্রমকালে অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীকাকুলাম, ভিশাখাপাত্তনাম ও বিজিয়ানাগরম এবং দক্ষিণ ওড়িশার গঞ্জম ও গজপতি জেলায় তাণ্ডব চালাবে। এছাড়া আরো সাতটি জেলায় নানা মাত্রার শক্তি নিয়ে আঘাত হানবে। তিনি বলেন, মধ্যরাতে অন্ধ্রপ্রদেশের কালিঙ্গপাটনাম ও দক্ষিণ ওড়িশার গোপালপুরের মধ্যবর্তী কোনো স্থান দিয়ে উপকূল অতিক্রম করবে গুলাব। এ সময় ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রে ঘণ্টায় একটানা সর্বোচ্চ বাতাসের গতিবেগ থাকবে ৭৫ থেকে ৮৫ কিলোমিটার, যা ৯৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়তে পারে। তার আগে উপকূলে আঘাত হানছে রাত সাড়ে ৮টা থেকে ৯টার দিকে। সামুদ্রিক এ ঝড়টির প্রভাবে সাগর বেশ উত্তাল রয়েছে। উপকূলে আঘাত হানার সময় অর্ধমিটারের অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া বৃষ্টিপাত থাকবে আগামী বুধবার পর্যন্ত।
এদিকে আবহাওয়াবিদ আরিফ হোসেন জানান, বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানার কোনো শঙ্কা বা সম্ভাবনা না থাকলেও ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছে সাগর উত্তাল থাকায় বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দরগুলোকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি থাকার এবং গভীর সাগরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের দূরবর্তী প্রভাবে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের বর্ষণ হতে পারে। ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বাংলাদেশের আবহাওয়া অফিস বলেছে, ঢাকা, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দুয়েক জায়গায় অস্থায়ী দমকাসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হতে পারে। আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, দুই দিন বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বেশি থাকবে। তারপর কিছুটা কমে যাবে। সপ্তাহের শেষের দিকে ফের বাড়তে পারে।
এদিকে ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টি স্থলভাগে আসার পরে ঝড়ে রূপ নিতে পারে। এতে ভারতীয় উপকূলীয় এলাকায় কিছু ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঝড়ের কারণে বিদ্যুত্ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে।