বগুড়ায় মরিচ থেকে আয়ের সম্ভাবনা তিনশ কোটি টাকা

আলু ও ধানের লোকসান পুষিয়ে নিতে বগুড়া জেলায় কৃষকরা এবার মরিচ চাষে ঝুঁকেছেন। গত বছর মরিচের ভালো দাম পেয়েছেন কৃষক। এ বছরও ভালো ফলন হয়েছে। কৃষি বিভাগের হিসেবে মতে, এ বছর শুকনো করা মরিচ থেকে আনুমানিক তিনশ কোটি টাকা আয় হবে।  

ইতিমধ্যে গুড়া মশলা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো লাল টোপা মরিচ সংগ্রহ করে তাদের ফ্যাক্টরিতে নিয়ে যেতে শুরু করেছে।

বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবার আবহাওয়া ভালো থাকায় মরিচের ভাল ফলন হয়েছে। জেলায় এ বছর ৭ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। জমি থেকে লাল পাকা মরিচ সংগ্রহ করা শুরু হয়েছে। শুকনা মরিচ আকারে ফলনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৩ হাজার মেট্রিক টন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নিখিল চন্দ্র বিশ্বাস জানান, যেহেতু এবার আবহাওয়া ভালো, তাই ১৫ হাজার মেট্রিক টন মরিচ (শুকনা আকারে) উৎপাদন হতে পারে। ১৫ হাজার মেট্রিক টন থেকে কৃষকদের আয় হতে পারে প্রায় তিনশ কোটি টাকা। এর পাশাপাশি কাঁচা মরিচেও আয় করবে কৃষক।

আরো পড়ুন: নারায়ণগঞ্জে অন্তঃসত্ত্বা ইউএনওকে ওএসডি, তদন্তের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

বগুড়া জেলায় সবচেয়ে বেশি মরিচ চাষ হয় সারিয়াকান্দি, শাজাহানপুর, সোনাতলা, ধুনট, শেরপুর, নন্দীগ্রাম ও শিবগঞ্জ উপজেলায়।বগুড়ার সারিয়াকান্দি ও ধুনট উপজেলায় যমুনা নদী বেষ্টিত এলাকা গুলোতে গিয়ে দেখা গেছে, চরের নারী ও পুরুষেরা মরিচ শুকানোতে ব্যস্ত সময়  পার করছেন। বিশেষ করে নারীরা এই সময়ে মরিচের কাজে সময় দিয়ে বাড়তি টাকা আয় করছেন।
 
জেলার সারিয়াকান্দির মরিচ চাষি রফিকুল ইসলাম জানান, লাল মরিচ গাছ থেকে সংগ্রহ করছে মশলা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান গুলো। লাল টোপা মরিচ কৃষকের আঙিনায় শুকিয়ে প্রতিষ্ঠান গুলো তাদের ফ্যাক্টরিতে নিয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া মৌসুমি ব্যবসায়ীরা মরিচ কেনার জন্য এখন সারিয়াকান্দি ও ধুনট উপজেলা গুলোতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। 

ইত্তেফাক/অনি