মাহমুদুল কবীর, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
ঝুঁকিপূর্ণ নলকা সেতুর কারণে সিরাজগঞ্জে বঙ্গবন্ধু সেতু সংযোগ সড়কে প্রায়ই যানজট লেগে থাকে। এতে এই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী যানবাহন ও যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে ফুলজোড় নদীর ওপর নির্মিত এই সেতুটির বর্তমান অবস্থা নাজুক হয়ে পড়েছে। বহুবার মেরামত করা হয়েছে। যানবাহন চলাচল বৃদ্ধি পাওয়ায় সেতুতে মাঝে মধ্যে বড় বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হচ্ছে। এসব খানাখন্দ মেরামত করেও সুফল মিলছে না।
যে কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে হাইওয়ে পুলিশ। যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পেলে অনেক সময় সেতুর ওপর দিয়ে দ্বিমুখী চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। একপাশের যানবাহন ছেড়ে দিলে অন্যপাশের যানবাহনের সেতু পারাপার বন্ধ রাখা হয়। এভাবে পর্যায়ক্রমে চলতে থাকে। এই ধরনের পরিস্থিতি হলে বঙ্গবন্ধু সেতু থেকে হাটিকুমরুল গোল চত্বর পর্যন্ত তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। কোনো কোনো সময় সেতুর উভয় প্রান্তে প্রায় ১৮ কিলোমিটার পর্যন্ত সড়ক জুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। তখন এই সামান্য পথ অতিক্রমে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা সময় লেগে যায়। এতে মানুষের ভোগান্তি আরো বাড়ে। উত্তরবঙ্গের যানবাহনগুলো এই যানজট থেকে বাঁচার জন্য অনেক সময় সিরাজগঞ্জ শহরের মধ্য দিয়ে চলাচল করায় শহরের মধ্যেও যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে শহরবাসীকেও দুর্ভোগ পোহাতে হয়। দিনাজপুরগামী বাসচালক আব্দুর রহিম জানান, যানবাহনের চাপ বাড়ার কারণে অনেক সময় নলকা সেতুতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে দীর্ঘ সময় ধরে এই মহাসড়কে বসে থাকতে হয় । ট্রাকচালক শফিকুল ইসলাম জানান, এই সড়কে যানজটের কারণই হচ্ছে নলকা সেতু। বৃষ্টির সময় যানজটের ভোগান্তি আরো বেড়ে যায়। তিনি দ্রুত বিকল্প সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করে মানুষকে ভোগান্তির হাত থেকে রেহাই দেওয়ার দাবি জানান।
উল্লেখ্য, বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মাণের পর সেতুর পশ্চিম সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হলেও এই সেতুটি প্রশস্ত করা হয়নি। দিন দিন এই সড়কে যানবাহনের চাপ বৃদ্ধির কারণে মাঝে মধ্যেই এই সড়কে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। যা আরো প্রকট আকার ধারণ করে দুই ঈদে। এ সময় যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানবাহনেই বসে থাকতে হয়।
এ বিষয়ে হাটিকুমরুল হাইওয়ে পুলিশের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) রফিকুল ইসলাম বলেন, নলকা সেতুর দুপাশে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। সেতুর ওপরও রয়েছে খানাখন্দ। এখানে এসেই গাড়ির গতি ৫/৭ কিলোমিটারে নামিয়ে দিতে হয় চালকদের। ফলে যানজটের সৃষ্টি হয়। মাঝে মাঝেই এমন অবস্থা হচ্ছে আমরা নিজেরাই কিছু কিছু স্থানে গর্ত ভরাট করেছি। নলকা সেতুতে গাড়ি আসলে একপাশের গাড়ি থামিয়ে দিতে হয়। সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ তাই যানবাহনের সংখ্যা বেড়ে গেলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে পর্যায়ক্রমে একবার এদিক একবার ওদিকের গাড়ি ছাড়া হয়।
এ ব্যাপারে সিরাজগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী দিদারুল আলম তরফদার বলেন, এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত নলকা সেতুর দক্ষিণ পাশে আর একটি নতুন সেতুর নির্মাণের কাজ চলছে। এই সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হলে যানজট থাকবে না। তিনি আরো জানান, আগামী ডিসেম্বরে নতুন সেতুটি খুলে দেওয়া হবে।