বারবার মামলা, ক্ষুব্ধ হয়ে নিজের বাইকেই আগুন

ট্রাফিক পুলিশের অব্যাহত মামলায় ক্ষুব্ধ হয়ে এক রাইড শেয়ারিং চালক রাজধানীর বাড্ডায় নিজের মোটরসাইকেলটি পেট্রোল ঢেলে জ্বালিয়ে দিয়েছেন। গতকাল সোমবার সকাল ৮টার দিকে বাড্ডা লিংক রোডে এ ঘটনা ঘটে। ক্ষুব্ধ চালক শওকত আলম সোহেল করোনাকালের আগে ছিলেন ব্যবসায়ী। আয় ভালো হওয়ায় ছিল সুখের সংসার।   কিন্তু করোনার ছোবলে তিনি লোকসানে পড়েন। এক পর্যায়ে ব্যবসা গুটিয়ে কেনেন একটি মোটরসাইকেল। রাইড শেয়ারিং অ্যাপস পাঠাও-এর মাধ্যমে যাত্রী পরিবহন করে শুরু হয় নতুন জীবনযুদ্ধ। কিন্তু ট্রাফিক পুলিশ বারবার মামলা দেওয়ায় হয়ে ওঠেন তিক্তবিরক্ত।

বাইক আগুনে পেড়ানোর ভিডিও এক পথচারী ফেসবুকে শেয়ার করলে মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। এদিকে, এ ঘটনাকে মর্মান্তিক উল্লেখ করে পুলিশি হয়রানি বন্ধসহ ছয় দফা দাবিতে ২৪ ঘণ্টা কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে অ্যাপ-বেইজড ড্রাইভারস ইউনিয়ন অব বাংলাদেশ (ডিআরডিইউ)। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক বেলাল আহমেদ বলেন, সোমবার রাত ১২টা থেকে মঙ্গলবার রাত ১২টা পর্যন্ত ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে অ্যাপস ভিত্তিক রাইড শেয়ারিং যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। ছয় দফা বাস্তবায়নের দাবিতে মঙ্গলবার সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও সমাবেশ কর্মসূচি পালন করা হবে। দাবিগুলো হলো—অ্যাপস নির্ভর চালকদের শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে, সব ধরনের রাইডে কমিশন ১০ শতাংশ নির্ধারণ করতে হবে, ঢাকা-চট্টগ্রাম-সিলেটে রাইড শেয়ারিং যানবাহন দাঁড়ানোর জায়গা করে দিতে হবে, নিবন্ধিত রাইড শেয়ারিং যানবাহনগুলো অ্যাডভান্স ইনকাম ট্যাক্স (এআইটি) মুক্ত রাখতে হবে এবং গত বছর গ্রহণ করা এআইটি রাইড শেয়ারিং যানবাহনকে ফেরত দিতে হবে।

জানা গেছে, বাইকে আগুন দেওয়া চালক সোহেলের বাড়ি কেরানীগঞ্জে। করোনার  সংক্রমণ শুরুর আগে তিনি স্যানিটারি সামগ্রীর ব্যবসা করতেন। লোকসানে পড়ে গত দুই মাস ধরে বাইকে যাত্রী পরিবহন করতেন। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, বাইকে আগুন দিয়ে সোহেল উদ্ভ্রান্তের মতো চিত্কার করছেন। প্রত্যক্ষদর্শী একজন পানি ঢেলে আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন। তখন সোহেল এসে তাকে বাধা দেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাড্ডা থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আবু সাঈদ মিয়া বলেন, ঐ রাইডার আইন অমান্য করায় সার্জেন্ট বাইকের কাগজ দেখতে চান। কাগজ চেক করার সময় হুট করেই নিজের বাইকে আগুন ধরিয়ে দেন সোহেল। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়। প্রাথমিকভাবে সোহেল জানিয়েছেন, কাগজ ঠিক থাকার পরেও বারবার মামলা দিচ্ছে ট্রাফিক পুলিশ। চলতি মাসেও পল্টনে এক বার মামলা দেওয়া হয়। তাই রাগে ক্ষোভে বাইকে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন। এক প্রশ্নের জবাবে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, সার্জেন্ট মামলা দেননি বলে জানতে পেরেছি। তবুও সোহেল ও ঐ সার্জেন্টকে থানায় এনে বিষয়টি জানার চেষ্টা করা হয়। সোহেল বারবার নিজের ক্ষোভের কারণে এমনটা ঘটিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।