বিদেশ ফেরা নারী শ্রমিকদের অসহায় অবস্থা নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন

পরিবারের ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় বিদেশ গিয়ে ২৩ শতাংশ নারী শ্রমিক এক বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই দেশে ফিরেছেন। ১৮ শতাংশ এক বছরের সামান্য বেশি সময় থেকেছেন, ৫৫ শতাংশ নারী শ্রমিকের দেশে ফেরত আসা ছিল জবরদস্তিমূলক। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ-বিলস্-এর ‘দেশে ফিরে আসা অভিবাসী নারী শ্রমিকদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল সোমবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে বিলস্ সেমিনার হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপনে এ তথ্য জানা যায়। সংবাদ সম্মেলনে গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বিলস্ গবেষণা বিভাগের উপ-পরিচালক মো. মনিরুল ইসলাম। বিদেশ ফেরা নারী শ্রমিকদের অসহায় অবস্থা নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে তাদের সুরক্ষার জন্য কিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয় সংবাদ সম্মেলনে।

বিলস্ দেশের তিনটি জেলার (চট্টগ্রাম, যশোর ও ফরিদপুর) ৩২৩ জন প্রত্যাবাসী অভিবাসী নারী শ্রমিকের ওপর জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করে। গবেষণায় দেখা যায়, দেশে ফেরত আসা প্রতি তিন জন নারী শ্রমিকের মধ্যে এক জনের অর্থনৈতিক অবস্থা আগের থেকে অবনতি হয়েছে এবং তাদের মধ্যে সিংহভাগই তাদের ভবিষ্যত্ নিয়ে উদ্বিগ্ন। ৮৫ শতাংশ তাদের বর্তমান কাজ নিয়ে হতাশাগ্রস্ত এবং ৫৭ শতাংশ তাদের জীবন ও জীবিকা নিয়ে চিন্তিত। গবেষণায় দেখা গেছে, ৫২ শতাংশ বিদেশে জবরদস্তিমূলক শ্রমের শিকার হয়েছেন, ৬১ শতাংশ বিদেশে খাদ্য ও পানির অভাবে ভুগেছেন, ৭ শতাংশ যৌন এবং ৩৮ শতাংশ শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

বিদেশফেরত নারী শ্রমিকদের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বিদেশ ফেরত ৬০ শতাংশ নারী শ্রমিক বেকার, ৬৫ শতাংশ শ্রমিকের নিয়মিত কোনো আয় নেই, ৬১ শতাংশ শ্রমিক এখনো ঋণের বোঝা বয়ে বেড়াচ্ছেন, ৭৫ শতাংশ শ্রমিকের কোনো সঞ্চয় নেই এবং ৭৩ শতাংশ শ্রমিক তাদের পরিবারের দৈনন্দিন চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হচ্ছেন। বিদেশফেরত নারী শ্রমিকদের ৫৫ শতাংশ শারীরিকভাবে অসুস্থ, ২৯ শতাংশের মানসিক অসুস্থতা রয়েছে এবং ৮৭ শতাংশ শ্রমিক মানসিক অসুস্থতার কোনো চিকিত্সা পায়নি। বিদেশফেরত নারী শ্রমিকরা সামাজিকভাবেও হেয় প্রতিপন্ন হচ্ছেন। পরিবার ও সমাজ তাদের সঙ্গে বৈরী এবং অমানবিক আচরণ করে। ৩৮ শতাংশ নারী শ্রমিক বলছেন সমাজে তাদের নিম্ন শ্রেণীর চরিত্রহীন নারী বলে গণ্য করা হয়। ১৫ শতাংশ বিদেশ থেকে ফিরে আসা নারী তালাকপ্রাপ্ত হয়েছেন। ১১ শতাংশ নারী শ্রমিকের স্বামী তাদের ছেড়ে চলে গেছেন এবং ২৮ শতাংশ নারী শ্রমিক তাদের দাম্পত্য জীবনে বিরূপ প্রভাবের সম্মুখীন হয়েছেন। প্রতিবেদনে প্রত্যাবাসী নারী শ্রমিকদের জন্য উপযুক্ত সামজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা করা; উপযুক্ত দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ এবং কর্মসংস্থান তৈরি করা; সহজ শর্তে ঋণ দেওয়া, পাশাপাশি উপযুক্ত বাণিজ্যিক পরামর্শ দেওয়া; মনো-সামাজিক পরামর্শসহ উপযুক্ত স্বাস্থ্য সহায়তা দেওয়ার সুপারিশ জানানো হয়।