নিজ কন্যা সন্তানকে হত্যা করে লাশ পাতিলের ভিতরে ঢুকিয়ে ঘরের খাটের নিচে লুকিয়ে রেখে পালিয়ে গেছে এক পিতা। এ ঘটনায় পাষণ্ড পিতা রফিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে শ্রীপুর থানার পুলিশ। সোমবার দুপুরে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের নীলেরপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান জানান, ‘সোমাবার বিকালে আসামি রফিকুল ইসলামকে গাজীপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠালে তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।’
আদালতে রফিকুল জানায়, স্ত্রীর পরকীয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি তার মেয়েকে হত্যা করেছেন।
এর আগে রবিবার রাতে গাজীপুরের শ্রীপুর পৌর এলাকায় গিলারচালা গ্রামের হাজী ইয়াসিন মিয়ার বাড়িতে ভাড়াটিয়া রফিকুল ইসলার তার মেয়ে মিনারা খাতুনকে (৬) শ্বাসরোধ করে হত্যার পর নিজের ঘরের খাটের নিচে একটি পাতিলের ভিতরে ভর্তি করে রেখে পালিয়ে যায়।
জেলার কাপাসিয়া উপজেলার হালজোড় গ্রামের রফিকুল ইসলাম স্ত্রী-সন্তানসহ শ্রীপুর পৌর এলাকার গিলারচালা গ্রামের হাজী ইয়াসিন মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থাকেন। তারা স্বামী-স্ত্রী দুজনই স্থানীয় ডেনিম্যাক গার্মেন্টসে চাকরি করেন। তাদের মেয়ে মনিরা স্থানীয় মোহাম্মদ আলী কিন্ডারগার্টেনের শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
ওই তদন্তকারী কর্মকর্তা আরো জানান, রবিবার সন্ধ্যায় শিশুটির মা নাসরিন আক্তার মুঠোফোনে মনিরার নিখোঁজের বিষয়টি থানা পুলিশকে অবহিত করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ভাড়া বাড়ির ঘরের ভেতর খোঁজাখুঁজি শুরু করে। একপর্যায়ে ঘরের খাটের নিচে বড় একটি পাতিলের ভেতর থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে।
আরও পড়ুনঃ সাভারে অস্ত্র ব্যবসায়ী আটক, পিস্তল-গুলি উদ্ধার
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাবেদুল ইসলাম জানান, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন কলহ চলছিল। এর জেরে শিশুটিকে হত্যা করা করে পিতা রফিকুল ইসলাম।
ইত্তেফাক/নূহু