রোনালদোর দেশে নিরাপদ আশ্রয়ে আফগান নারী ফুটবলাররা

তালেবানের ভয়ে সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে আফগানিস্তান ছেড়ে পাকিস্তানে পাড়ি জমিয়েছিল দেশটির জুনিয়র নারী ফুটবলাররা। অবশেষে দীর্ঘ প্রক্রিয়া ও পথ পাড়ি দিয়ে নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে পেল তারা। বর্তমানে পর্তুগালে অবস্থান করছেন। আগামী দিনগুলোতে সেখানেই তারা বসবাস করবেন। খবর প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

১৫ বছর বয়সী আফগান নারী ফুটবলার সারাহ বলেন, মাতৃভূমি আফগানিস্তান ছেড়ে আসা কষ্টদায়ক ছিল। তবে এখন পর্তুগালে নিরাপদে আছেন। তিনি আশা করছেন এই দেশেই প্রফেশনালি ফুটবল খেলে নিজের স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করবেন। আইডল ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করার স্বপ্ন দেখেন এই তরুণী।

রোনালদোর শহর লিসবনের ট্যাগাস নদীর ওপর ল্যান্ডমার্ক বেলেম টাওয়ারে মা এবং টিমমেটদের সঙ্গে ঘুরতে যান সারাহ। সেখানে উচ্ছ্বসিত কন্ঠে তিনি বলেন, ‘আমি মুক্ত। আমার স্বপ্ন রোনালদোর মতো একজন ভালো খেলোয়াড় হওয়া। পাশাপাশি পর্তুগালে একজন বড় ব্যবসায়ী হতে চাই।’

সারাহ আশা করছেন একদিন মাতৃভূমিতে (আফগানিস্তান) ফিরে যাবেন। অবশ্য যদি সেখানে মুক্ত ও স্বাধীনভাবে বসবাস করার অধিকার পাওয়া যায় তাহলেই। তার মা, যিনি ১৯৯৬-২০০১ সালের সময় তালেবান শাসন দেখেছেন। তিনি অবশ্য আফগানিস্তানে ফেরার ব্যাপারে খুব কমই আশা দেখছেন।

আফগানিস্তানের সিনিয়র নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক ফারখুন্দা মুহতাজ বলেন, আফগানিস্তান থেকে নারী ফুটবলারদের সরিয়ে নিয়ে আসার উদ্দেশ্য হলো এটা নিশ্চিত করা যে, তারা যেন নিজেদের পছন্দসই খেলাধুলা করতে এবং খেলতে পারে।

জুনিয়র খেলোয়াড়দের সারপ্রাইজ দিতে বুধবার (২৯ সেপ্টেম্বর) লিসবনে আসেন ফারখুন্দা মুহতাজ। তিনি বর্তমানে কানাডায় বসবাস করছেন। সেখানকার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুটবল টিমে সহকারী কোচ হিসেবে কাজ করেন। তিনি জুনিয়র নারীদের লিসবনে আসার পুরো প্রক্রিয়ায় জড়িত ছিলেন। খেলোয়াড় ও পরিবারের সদস্যসহ মোট ৮০ জন পর্তুগালে আশ্রয় নিয়েছেন। গত ১৯ সেপ্টেম্বর তারা পর্তুগালে পৌঁছান।

বুধবার রাতে মুহতাজকে দেখে আনন্দে প্রায় কান্না করে দেন জুনিয়র নারী ফুটবলাররা। তাদের অনেকের চোখে পানি ছিল। যেন এই দূর প্রবাসে খুব আপন ও আশ্রয় নেওয়ার মতো কাউকে পেয়েছে। একে একে সবাই তাকে জড়িয়ে ধরেন।

ইত্তেফাক/টিএ