মো. খবির উদ্দিন, তারাগঞ্জ (রংপুর) সংবাদদাতা
তারাগঞ্জ উপজেলায় প্রাথমিকের পাঁচটি বিদ্যালয়ে ভবন নিলাম হওয়ায় শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে প্রায় সাড়ে বারো শ শিক্ষার্থীর ক্লাস নিতে বিপাকে পড়তে হচ্ছে শিক্ষকদের। কর্তৃপক্ষের নিকট তাদের দাবি, বিদ্যালয়গুলোতে শিগিগর নতুন ভবন নির্মাণের ব্যবস্থা করা হোক। তাহলে একদিকে শিক্ষকরা সঠিকভাবে ক্লাস নেওয়ার মাধ্যমে যেমন শিক্ষার্থীদের মেধার বিকাশ ঘটাতে পারবেন অপরদিকে করোনার সময়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই ক্লাস নেওয়া সম্ভব হবে।
জানা গেছে, গত ৯ আগস্ট উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা নিলাম কমিটি পাঁচটি সরকারি ভবন নিলামের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। ভবনগুলো হলো- ডাংগীরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঁচ কক্ষবিশিষ্ট একটি টিনসেড ঘর, ইকরচালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তিন কক্ষবিশিষ্ট ভবন, কাঁচনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তিন কক্ষবিশিষ্ট ভবন, বাছুরবান্ধা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুই কক্ষবিশিষ্ট একটি টিনসেড ঘর ও সয়ার ধোলাইঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তিন কক্ষবিশিষ্ট ভবন। নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর ২৬ আগস্ট সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ ভবনগুলো নিলাম হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়ের নিলামকৃত ভবনগুলো ভেঙে ফেলার কাজ চলমান রয়েছে। বিদ্যালয়গুলো থেকে প্রাপ্ত সূত্রে জানা গেছে, শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ক্লাস নিতে ডাংগীরহাটে ৫৬৩ জন শিক্ষার্থীর জন্য পাঁচটি শ্রেণিকক্ষ, ইকরচালিতে ২৬১ জন শিক্ষার্থীর জন্য দুইটি কক্ষ, কাঁচনাতে ৩২৯ জন শিক্ষার্থীর জন্য দুইটি কক্ষ, বাছুরবান্ধায় ২৫৫ জন শিক্ষার্থীর জন্য দুইটি কক্ষ এবং ধোলাইঘাটে ১৬২ জন শিক্ষার্থীর জন্য দুইটি কক্ষ ব্যবহার হচ্ছে।
গত বুধবার সরেজমিনে ডাংগীরহাটে গিয়ে দেখা যায়, ৫ম শ্রেণির ১০২ জন শিক্ষার্থী দুটি কক্ষে গাদাগাদিভাবে ক্লাস করছে। এসময় ডাংগীরহাটের প্রধান শিক্ষক শামসুদ্দিন বলেন, করোনার মহামারিতে দেড় বছর পর স্কুল চালু হওয়ায় শিক্ষার্থীদের ক্লাস করার আগ্রহ বেড়েছে। ফলে শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে ডাংগীরহাট হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ কক্ষে গাদাগাদি করে ক্লাস নিতে হচ্ছে। এতে করে বিপাকে পড়তে হচ্ছে। আবার যখন সরকারিভাবে প্রতিদিন প্লে থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত ক্লাস নেওয়ার নির্দেশ আসবে তখন খোলা আকাশের নিচে পাঠদান ছাড়া উপায় থাকবে না। কাঁচনার প্রধান শিক্ষক দুলালী বেগম বলেন, বর্তমানে ৩২৯ জন শিক্ষার্থীর জন্য মাত্র দুইটি কক্ষে পর্যায়ক্রমে ক্লাস নিতে হচ্ছে। করোনার মহামারিতে স্কুল বন্ধের সময় যদি সরকারিভাবে ভবন নির্মাণ করা হতো তাহলে শ্রেণিকক্ষের সংকটে পড়তে হতো না। অবশিষ্ট ইকরচালি, বাছুরবান্ধা ও ধোলাইঘাট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে কথা হলে তারাও এমন সমস্যার কথা জানিয়ে বলেছেন, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ভবন নির্মাণ করা না হলে সমস্যার সমাধান পাওয়া যাবে না।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আঞ্জুয়ারা বেগম বলেন, বিদ্যালয়গুলোতে নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হবে। বর্তমানে রুটিন অনুযায়ী ক্লাস চলছে, তাই সমস্যা তেমন একটা হচ্ছে না।