নূরুল মোহাইমীন মিল্টন, কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা
করোনাকালে বন্ধ থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের বেতনের বোঝা, সময়মতো ফি দিতে না পারা, গোপনে বাল্যবিবাহ এবং অভাব-অনটনের সংসারে হাল ধরতে কাজকর্মে নিয়োজিত হয়ে যাওয়ায় মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় মাধ্যমিকে ৩০ শতাংশ ও প্রাথমিকে ২২ শতাংশ শিক্ষার্থী স্কুলে আসছে না। এসব শিক্ষার্থীর বিদ্যালয়ে আসার বিষয়টি প্রায় অনিশ্চিত বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এই চিত্র পাওয়া গেছে। জানা যায়, করোনা ভাইরাসের কারণে গত বছরের মার্চ মাসে সরকারি নির্দেশনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহ বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ প্রায় ১৮ মাস পরে গত ১২ সেপ্টেম্বর খোলা হয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। করোনাকালীন এই সময়ে উপজেলার প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও কলেজ পর্যায়ে অনেক শিক্ষার্থীই ঝরে পড়েছে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের পরিবারের সন্তানদের ক্ষেত্রে এই ঘটনা বেশি ঘটেছে।
আব্দুল খালিক, আক্তার মিয়া, আফিয়া বেগমসহ কিছু কিছু অভিভাবকের করোনাকালে কমে গেছে আয়-রোজগার। বিপরীতে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। এই প্রেক্ষাপটে সন্তানদের পড়াশোনা করানো তাদের জন্য কষ্টকর হয়ে পড়েছে। শমশেরনগর হাজী মো. উস্তওয়ার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নূরে আলম সিদ্দিক ও কমলগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা বিলকিস বেগম জানান, স্কুল খোলার পর হতে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০ শতাংশ শিক্ষার্থী স্কুলে আসছে না। আমরা নানাভাবে চেষ্টা করছি শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করার জন্য।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, এ পর্যন্ত আমাদের বিদ্যালয়সমূহে গড়ে প্রায় ৭৮ শতাংশ শিক্ষার্থী উপস্থিত রয়েছে। ২২ শতাংশ শিক্ষার্থী অনুপস্থিত রয়েছে। অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়গামী করার জন্য শিক্ষকসহ আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এমনকি শিক্ষার্থীদের বাড়ি বাড়ি গিয়েও তাদের উত্সাহিত করানো হচ্ছে।
কমলগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শামসুন্নাহার পারভীন বলেন, এখন পর্যন্ত বিদ্যালয়সমূহে প্রায় ৩০ শতাংশ শিক্ষার্থী অনুপস্থিত। কী কারণে তারা বিদ্যালয়ে আসছে না, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু জানা যায়নি। তবে বাল্যবিবাহ, কাজেকর্মে নিয়োজিত হওয়া ও করোনার ভয়ে অনুপস্থিত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।