মুহিবুল্লাহ হত্যার পূর্ণ তদন্ত চায় যুক্তরাষ্ট্র

রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যার ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করে পূর্ণাঙ্গ এবং স্বচ্ছ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানান। এদিকে এই হত্যার ঘটনায় মামলা হলেও কারো নাম উল্লেখ করা হয়নি। অজ্ঞাতনামা ২০-২৫ জন দুর্বৃত্তের কথা উল্লেখ করে দায়ের করা এ মামলার বাদী হয়েছেন নিহত মুহিবুল্লাহর ছোট ভাই হাবিবুল্লাহ। বৃহস্পতিবার রাতে উখিয়া থানায় মামলাটি নথিভুক্ত হয় বলে জানিয়েছেন ওসি আহমেদ সনজুর মোরশেদ।

এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সেলিম উল্লাহ ওরফে লম্বা সেলিম (২৭) নামে এক রোহিঙ্গা যুবককে আটক করেছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) সদস্যরা। শুক্রবার  দুপুরে কুতুপালং     ৬ নম্বর ক্যাম্প থেকে তাকে আটক করা হয়। আটকের পর সেলিমকে উখিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয় বলে জানিয়েছেন এপিবিএন-১৪ এর এসপি নাইমুল হক।

উখিয়া থানার ওসি বলেন, মামলা নথিভুক্ত করার পর ঘটনায় জড়িতদের ধরতে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সব শাখা  একীভূত হয়ে কাজ করছে।  আটক রাহিঙ্গা যুবককে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে পলাতক থাকায় ও জিজ্ঞাসাবাদে অসংলগ্ন কথাবার্তা বলায় তাকে মুহিবুল্লাহ হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন বিবৃতিতে বলেছেন, বিশ্বে রোহিঙ্গা মুসলিমদের মানবাধিকার রক্ষায় সাহসী এবং জোরালো ভূমিকা পালন করছিলেন মুহিবুল্লাহ। তিনি জেনেভায় মানবাধিকার কাউন্সিল এবং ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক মন্ত্রীপর্যায়ের বৈঠকে রোহিঙ্গাদের পক্ষে কথা বলেন। ধর্মীয় কারণে নিপীড়নের শিকার অন্যদের সঙ্গে তিনিও কথা বলেন। তাই মুহিবুল্লাহ হত্যার ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ এবং স্বচ্ছ তদন্তের আহ্বান জানাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। যাতে এই ঘৃণ্য অপরাধে জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করা যায়।   

হত্যাকারীদের চিনেছেন মুহিবুল্লাহর ভাই!

উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্পের বাসিন্দা রোহিঙ্গাদের শীর্ষ নেতা আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের (এআরএসপিএইচ) চেয়ারম্যান মুহিবুল্লাহ হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া কয়েক জনকে চিনেছেন বলে দাবি করেছেন নিহতের ছোট ভাই হাবিবুল্লাহ। কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গের বাইরে বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে তিনি কথিত আরসা ও আল-ইয়াকিন নেতা হিসেবে পরিচিত মাস্টার আবদুর রহিম, লালু ও মোরশেদকে চিনেছেন বলে উল্লেখ করেন। এ সময় হত্যাকারীদের নাম প্রকাশ করলে তাকে মেরে ফেলা হতে পারে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে মুহিবুল্লাহর অনুসারী কয়েক জন রোহিঙ্গা বলেন, ‘হুমকির’ কারণে চিহ্নিতদেরও মামলায় আসামি হিসেবে উল্লেখ করা যায়নি।

গত বুধবার রাত পৌনে ৯টার দিকে কুতুপালং মেগা ক্যাম্পের লম্বাশিয়ায় অবস্থিত এআরএসপিএইচ কার্যালয়ে একদল অস্ত্রধারী গুলি করে মুহিবুল্লাহকে হত্যা করে। মিয়ানমারে থাকতে তিনি একটি স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। ক্যাম্প এবং প্রশাসনের কাছে তিনি মাস্টার মুহিবুল্লাহ নামে পরিচিত ছিলেন।