বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ও মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী গত সেপ্টেম্বরে দেশের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ও পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা যায়, রাষ্ট্র কর্তৃক বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যের তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা যায়, এ সময়কালে ধর্ষণসহ নারী ও শিশুদের ওপর সহিংসতার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে।
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাধারণ নাগরিকদের বস্তুনিষ্ঠ ও স্বাধীন চিন্তা, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা এবং মতামত প্রকাশের সংবিধান প্রদত্ত অধিকার প্রয়োগের পথ রুদ্ধ করার মতো ঘটনার পুনরাবৃত্ত ঘটেছে। সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে হামলা, কারা হেফাজতে মৃত্যু, সীমান্তে হতাহতের মতো ঘটনাও বন্ধ হয়নি। অপরদিকে ছিনতাই ও গণপিটুনির মতো ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় এমএসএফ গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করছে।
তথ্য অনুযায়ী সেপ্টেম্বর, ২০২১-এ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে ক্রসফায়ার বা বন্দুকযুদ্ধের আটটি ঘটনায় চার জন নিহত হয়েছে। কারা হেফাজতে পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। ৩৪৭টি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা সংঘটিত হয়েছে, যার মধ্যে ধর্ষণের ঘটনা ৭১টি, গণধর্ষণ ১৯টি, ধর্ষণ ও হত্যা চারটি, প্রতিবন্ধী শিশু ও কিশোরী ধষর্ণের শিকার হয়েছে আট জন। অ্যাসিড নিক্ষেপে আক্রান্ত হয়েছে দুই জন নারী। অপহরণের শিকার হয়েছে তিন জন শিশু, অপরদিকে ১২ জন শিশু, কিশোরী ও নারী নিখোঁজ হয়েছেন। এ মাসে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় ১১ জন আইনজীবী ও চার জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। ছয় জন সাধারণ নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। সংঘটিত অপরাধ দণ্ডবিধি আইনে মামলা না করে বরং ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনের যথেচ্ছ অপব্যবহারের চিত্রটি সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে, যা হয়রানিমূলক ও অগ্রহণযোগ্য।—সংবাদ বিজ্ঞপ্তি