প্রায় দেড়বছর শ্রেণিকক্ষে পাঠে না বসতে পারলেও সরাসরি পরীক্ষায় বসতে হচ্ছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীদের। কোনো বিভাগে ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে পরীক্ষা। কোনোটিতে চলছে পূর্বপ্রস্তুতি। তবে পরীক্ষার এই সময়ে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার বন্ধ থাকায় পড়াশোনা নিয়ে শিক্ষার্থীরা পড়েছেন বিপাকে। এটি পরীক্ষা প্রস্তুতিতে বেশ প্রভাব ফেলছে বলে জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে বেশ কিছু শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। তারা জানান, পরীক্ষার এই সময়ে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার বন্ধ থাকায় পড়াশোনার জন্য সেখানে যেতে পারছেন না। ফলে পরীক্ষা প্রস্তুতিতে তৈরি হচ্ছে প্রতিবন্ধকতা। কোনো কোনো বিভাগের এমন কিছু রেফারেন্স বই আছে যা শুধু কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারেই আছে, কিন্তু তারা সেখান থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য নিতে পারছেন না। তাছাড়া করোনাকালীন এই সময়ে অনলাইন ক্লাস চালু থাকলেও কিছু বিভাগে তা ছিল অনিয়মিত। নেটওয়ার্ক জটিলতায়ও অনেক শিক্ষার্থী করতে পারেননি ক্লাস। ফলে এ ক্ষতি পুষিয়ে নিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে নির্দিষ্ট একটা সময়ের জন্য হলেও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার খোলার দাবি তাদের।
বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী মো. নকিব বলেন, একাডেমিক রেফারেন্স বই এবং রিসার্চের কাজে বেশ কয়েকবার কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে গিয়েও বন্ধ থাকায় ফিরে আসতে হয়েছে। পরীক্ষা হচ্ছে অথচ হল খোলা নেই, যাতায়াতের ব্যবস্থা নেই! তবে এসবের বিকল্প ব্যবস্থা আছে। কিন্তু গ্রন্থাগারের কোনো বিকল্প ব্যবস্থা আমরা নিজেরাও করে নিতে পারিনি। কারণ অনেক বই পড়ার সাধ থাকলেও সাধ্য সবার হয় না।
ছবি: ইত্তেফাক
শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার খোলার পক্ষে মত শিক্ষকদেরও। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, যেহেতু এখন করোনা সংক্রমণ কিছুটা নিম্নমুখী। তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে গ্রন্থাগার খুলে দেওয়াটা উচিৎ। আমাদের অনেক শিক্ষার্থীই আর্থিক কারণে দামি বইগুলো কিনতে পারে না। এক্ষেত্রে গ্রন্থাগার তাদের পড়াশোনায় বিশাল সাহায্য করে।
এদিকে অন্তত এক ডোজ টিকা নিশ্চিত ছাড়া কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার খোলা হবে না বলে জানিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার। তিনি দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, এখন খোলার কোনো সম্ভাবনা নেই। হল খুললে তখন খুলবো। এখন খুললে আমরা সামলাতে পারছি না।
এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের ভারপ্রাপ্ত গ্রন্থাগারিক একেএম মাহফুজুল হক দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, যেদিন বিশ্ববিদ্যালয় খুলবে সেদিন থেকে পরিপূর্ণভাবে গ্রন্থাগারও খোলা হবে। তবে আমি সংশ্লিষ্টদের বলেছি, কোনো পরীক্ষার্থী রিডিং রুমে দু-একটা বই চাইলে দিও।
ইত্তেফাক/এএএম