দেশকে স্বাধীন করতে যারা জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছিলেন, তাদের দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়। তবে স্বীকৃতি ও সম্মাননা না পাওয়া একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার নাম সোহরাব হোসেন খন্দকার রঞ্জু। লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় তার বাড়ি। এই বীর দেশের ডাকে তরুণ বয়সেই যোগ দিয়েছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধে। জীবন বাজি রেখে কাঁধে তুলে নেন অস্ত্র। স্বাধীন করেন দেশমাতৃকাকে। কিন্তু ভাগ্যের চাকা ঘোরেনি তাঁর কখনই। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আবেদন করলেও সরকারের করা মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নাম ওঠেনি তাঁর। ফলে পাননি মুক্তিযোদ্ধা ভাতাও। অবশেষে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি ছাড়াই চলতি বছরের ২৪ আগস্ট মারা যান সোহরাব হোসেন খন্দকার রঞ্জু।
তাঁর সহযোদ্ধা ও চাচাতো ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা খয়বর হোসেন খন্দকার বলেন, সোহরাব একজন গর্বিত মুজিব বাহিনীর সদস্য ছিলেন। ১৯৭১ সালে ভারতের ‘দেরাদুন’ ক্যাম্পে ৫৬ দিনের প্রশিক্ষণ নেন। তারপর ২৬ আগস্ট ১৯৭১ তিনি মুজিব বাহিনীর কমান্ডার অধ্যক্ষ শহীদুল্লাহ্ প্রধানের অধীনে দই খাওয়া অস্থায়ী ক্যাম্পে যোগ দেন। যুদ্ধের শেষদিন পর্যন্ত তিনি ৬ নং সেক্টরে মুজিব বাহিনীর সদস্য হিসেবে যুদ্ধ করেছিলেন। সে সময়ে তিনি বুয়েটে ইঞ্জিনিয়ারিং এ থার্ড ইয়ারে পড়তেন। ইঞ্জিনিয়ারিং এর ছাত্র হিসেবে তাকে মুক্তিযুদ্ধে রেডিও সিগন্যাল এবং এক্সপ্লোসিভের ওপর বিশেষ ট্রেনিং দেওয়া হয়। যুদ্ধের পর তিনি ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগ দেন। ২০০০ সালে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে সময়ের আগেই অবসর গ্রহণ করেন তিনি। যে সময় মুক্তিযোদ্ধাদের সনদ প্রদান ও যাচাই-বাছাই করা হয় সে সময়ে বিমানের ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে দেশ-বিদেশে ডিউটি থাকার কারণে তালিকা করার সময় উপস্থিত থাকতে পারেননি তিনি। তাই ওই সময়ে তিনি বাদ পড়েন মুক্তিযোদ্ধার তালিকা থেকে। পরবর্তীতে আবার তিনি আবেদন করেন। তখন বিভাগীয় জেলা কমিটির যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় তার দাবির সত্যতা পাওয়া গেলে তাকে মুক্তিযোদ্ধা সনদ প্রদান করার জন্য সুপারিশ করা হয়। কিন্তু মন্ত্রণালয় থেকে তার নাম এখন পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় ওঠেনি।
সেক্টর কমান্ডার শহীদুল্লাহ প্রধানও বলেন, সোহরাব হোসেনের মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট না পাওয়া ও সরকারি সম্মাননা না পাওয়ার বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। তিনি আমার অধীনেই যুদ্ধ করেছেন। তিনি একজন দক্ষ মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন।
সহযোদ্ধাদের দাবি সোহরাব হোসেন খন্দকার রঞ্জু দেশের একজন প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা। তিনি যেন তার প্রাপ্য সম্মাননা ও স্বীকৃতি পান সেজন্য প্রধানমন্ত্রী এবং মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তাঁরা। - প্রেস বিজ্ঞপ্তি