গণতন্ত্র রক্ষায় সহিংসতা বন্ধ হওয়া জরুরি :মমতাকে রাজ্যপাল

ইত্তেফাক ডেস্ক

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে রাজ্য সরকার ও রাজ্যপালের মধ্যে নতুন করে সংঘাতের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে! গতকাল শনিবার মহাত্মা গান্ধীর ১৫২তম জন্মবার্ষিকীতে রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর টুইট বার্তায় মহাত্মা গান্ধীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। অন্যদিকে মমতা ব্যানার্জিকে ট্যাগ করে তিনি লিখেছেন, ?গণতন্ত্র রক্ষায় হিংসা বন্ধ হওয়া জরুরি। আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, ভোট পরবর্তী সহিংসতা নিয়ে বারবার সরব হতে দেখা গেছে রাজ্যপালকে। এমনকি বারবার নয়াদিল্লি গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। গান্ধী জয়ন্তীতেও তা দেখা গেল।

অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতার শপথ নিয়ে স্পিকার ও রাজ্যপালের মধ্যে বিবাদের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আনন্দবাজার পত্রিকার আরেক খবরে বলা হয়েছে, তৃণমূলের দাবি ভবানীপুর উপনির্বাচনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির জয় সময়ের অপেক্ষা। উপনির্বাচনে জয় পেলে পূজার আগে বিধায়ক পদে শপথ নিতে পারেন মমতা। এবার সেই                  শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান নিয়েও কি বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্যপাল জগদীপ ধনকরের মধ্যে সংঘাত দেখা দিতে পারে? বিধানসভা সূত্রের বরাত দিয়ে খবরে বলা হয়েছে, সম্প্রতি রাজভবন থেকে একটি বার্তা এসেছে বিধানসভার সচিবালয়ে। সেই বার্তায় বলা হয়েছে, এরপর থেকে নির্বাচিত বিধায়কদের শপথ পাঠ করাবেন রাজ্যপাল। কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, সাংবিধানিকভাবে লোকসভার ক্ষেত্রে এমপিদের শপথ গ্রহণ করানোর দায়িত্ব দেশের রাষ্ট্রপতির। রাজ্য বিধানসভার ক্ষেত্রে সেই দায়িত্ব পান রাজ্যের রাজ্যপাল। কিন্তু প্রায় সব ক্ষেত্রেই এমপি বিধায়কদের শপথ পড়ানোর দায়িত্ব রাষ্ট্রপতি বা রাজ্যপাল দিয়ে দেন তার মনোনীত ব্যক্তিকে। লোকসভার ক্ষেত্রে সেই দায়িত্ব দেওয়া হয় স্পিকারকে। বিধানসভার ক্ষেত্রে রাজ্যপাল সেই দায়িত্ব দেন সংশ্লিষ্ট বিধানসভার স্পিকারকে। রাজভবন সূত্র বলছে, রাজ্যপালের দেওয়া সেই ক্ষমতা এবার প্রত্যাহার করে নেওয়া হতে পারে।

রাজভবন থেকে বিধানসভায় পাঠানো বার্তায় জানানো হয়েছে, ভারতীয় সংবিধানের ১৮৮ ধারা অনুযায়ী শপথগ্রহণ নিয়ে রাজ্যপাল এত দিন যে অধিকার স্পিকারকে দিয়েছিলেন, তা প্রত্যাহার করা হবে। এই প্রসঙ্গে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে মনে করা হচ্ছে, রবিবার ভবানীপুরসহ শামসেরগঞ্জ ও জঙ্গিপুর বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হওয়ার পর এ বিষয়ে মুখ খুলতে পারেন তিনি। স্পিকারের সঙ্গে রাজ্যপালের সংঘাত নতুন নয়। এর আগে বিধানসভায় তার বক্তৃতা সম্প্রচার করা নিয়ে সংঘাত হয়েছিল রাজ্যপাল-স্পিকারের।