পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী থাকছেন মমতা ব্যানার্জিই। ভবানীপুর আসনের উপনির্বাচন ছিল তার মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকার লড়াই। সেই লড়াইয়ে রেকর্ড ভোটে জিতেছেন তিনি। বিজেপির প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়ালের চেয়ে ৫৮ হাজার ৮৩৫ ভোট বেশি পেয়ে তিনি জয়ী হয়েছেন। ২০১১ সালের উপনির্বাচনে মমতা জিতেছিলেন ৫৪ হাজারের কিছু বেশি ভোটে। জয়ের পর মমতা ব্যানার্জি বলেছেন, ‘আমার বিরুদ্ধে অনেক চক্রান্ত হয়েছে। নন্দীগ্রামে ষড়যন্ত্রের উপযুক্ত জবাব ভবানীপুরের মানুষ দিয়েছেন।’ মমতা ব্যানার্জির এই জয়ের পর বিজেপি, জাতীয় কংগ্রেস, সিপিএমের তরফ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। এদিকে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার দুটি আসনে সাধারণ নির্বাচন ছিল। সেই দুটি আসনেও জিতেছে তৃণমূল কংগ্রেস।
ভবানীপুরে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের কৃষিমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। অন্যদিকে নন্দীগ্রামে পরাজিত হন মমতা ব্যানার্জি। শোভনদেব ভবানীপুরের বিধায়ক পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এই আসন শূন্য হওয়ার পর উপনির্বাচনে আবারও দাঁড়ান মমতা ব্যানার্জি। যদিও তিনি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবেই কাজ করছিলেন। নিয়ম অনুযায়ী ছয় মাসের মধ্যে তাকে রাজ্যের কোনো আসন থেকে জয়ী হয়ে আসতে হতো।
গত বৃহস্পতিবার ভবানীপুরে উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ হয়। মোট ভোট পড়ে ১ লাখ ১৮ হাজার ৫৮০টি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি পেয়েছেন ৮৫ হাজার ২৬৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল পেয়েছেন ২৬ হাজার ৪২৮ ভোট। আর সিপিএমের প্রার্থী শ্রীজীব বিশ্বাস পেয়েছেন ৪ হাজার ২২৬ ভোট।
মমতা বিধায়ক/এমএলএ হিসেবে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় কবে শপথ নেবেন, তা এখনো ঠিক হয়নি। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার স্পিকার বিমান ব্যানার্জি বলেন, ‘রাজ্যপালের কাছ থেকে অনুমতি এলেই আমি বিধায়কদের শপথ পাঠ করাব। বিধানসভায় শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।’
জয়ের পর মমতা ব্যানার্জি বলেন, ??‘আমার বিরুদ্ধে বহু চক্রান্ত হয়েছে। নন্দীগ্রামে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। তা না হলে বিধানসভা নির্বাচনে এত আসন পেলাম, অথচ নন্দীগ্রামে মামলা হলো। এটি বিচারাধীন বিষয়, তাই আমি এ নিয়ে বেশি মন্তব্য করব না।’ তিনি বলেন, ‘ষড়যন্ত্র করে দিল্লির বিজেপি নেতারা আমাকে হঠিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত করেছিল। ভবানীপুরের মানুষ তার উপযুক্ত জবাব দিয়েছেন। আমার মন ভরে গেছে।’ তিন আঙুল তুলে মমতা বলেন, ‘ভবানীপুর, সমশেরগঞ্জ ও জঙ্গিপুর—এই তিন জায়গায় আমরা জিতেছি। তাই দুই আঙুলে ‘ভি চিহ্ন’ নয়, তিনটি আঙুল দেখানো হল। ১, ২, ৩, মানুষকে ধন্যবাদ দিন।’?
মমতা বলেন, ?‘বন্যার সময় বিজয় মিছিল করতে নিষেধ করেছি। বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়িয়ে এই সময়ে সেবা করতে হবে। কোভিড পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। ভবানীপুরের মানুষ সব চক্রান্ত জব্দ করে দিয়েছে। আমাকে আরও কাজ করার জন্য উত্সাহ ও প্রেরণা দিয়েছে। আমি ভবানীপুরের মানুষের কাছে চিরঋণী থাকব।’ গতকাল রবিবার সকাল থেকে মমতার বাড়ির সামনে ছিল কর্মী-সমর্থকদের ভিড়, স্লোগান আর আবির দিয়ে খেলা। ফলাফল ঘোষণার পর বাড়ি থেকে বেরিয়ে গলির রাস্তার মুখে দাঁড়ান মমতা।
মমতার জয়ের পর তৃণমূলের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বলেন, এরপর দিল্লিতে যেতে হবে। ভারতের রাজনীতিতে যেতে হবে মমতা ব্যানার্জিকে। বিজেপিকে সরাতে হবে। মমতাকে বাংলায় নয়, ভারতে অগ্রণী ভূমিকায় দেখতে চায় মানুষ।