কঠিনতম পর্যায়ে গিয়ে শরীর ও মনের বিশেষ সক্ষমতার প্রমাণ দিতে গত কয়েক বছর ধরে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে আয়রনম্যান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট জর্জ শহরে অনুষ্ঠিত হয়েছে আয়রনম্যান ৭০.৩ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২১ সালের পর্ব। এই ইভেন্টে প্রায় দুই কিলোমিটার সাঁতার, ৯০ কিলোমিটার সাইক্লিং এবং প্রায় ৩ হাজার ৫০০ ফুট উচ্চতার পাহাড়ে আরোহণের জন্য বেঁধে দেওয়া হয় ৮ ঘণ্টা ৩০ মিনিট সময়। অংশ নেন বিশ্বের ৮০টি দেশের মোট ৩ হাজার ৫৫৫ জন প্রতিযোগী। বাংলাদেশের হয়ে এককভাবে প্রতিনিধিত্ব করেন নোয়াখালী জেলার মোহাম্মদ সামছুজ্জামান আরাফাত। নির্ধারিত সময়ের আগেই, মাত্র ৫ ঘন্টা ১৫ মিনিট ৪৩ সেকেন্ড সময়ে চ্যালেঞ্জ শেষ করে আরাফাত জিতে নেন জয়ের ট্রফি এবং অর্জন করেন আয়রনম্যান পদবি।
মোহাম্মদ সামছুজ্জামান আরাফাত ২০১৭ সালে টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া দৌড়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেলেন, যা প্রায় এক হাজার কিলোমিটারের বেশি পথ। বাংলাদেশের তরুণ হিসাবে এই দূরত্ব প্রথম পাড়ি দেওয়ার কৃতিত্ব তার। তিনি ২০১৫ সালে প্রথমবার বাংলা চ্যানেল সাঁতার কেটে পার হন। এরপর পর পর সাতবার সাঁতরে জয় করেন এই চ্যানেল। এইসব নানা রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা তাকে আয়রনম্যান চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিতে অনুপ্রাণিত করে।
আরাফাত বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে আয়রনম্যান ৭০.৩ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ-এ অংশগ্রহণ করা একটা অবিশ্বাস্য ব্যাপার ছিল। আমার ট্রেনিং করার কোন উপযুক্ত সুবিধা ছিল না, তাছাড়া বিদেশ যেতে আমার ভিসা সংক্রান্ত অনেক জটিলতা অতিক্রম করতে হয়েছে। এতগুলো চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে যখন ফিনিশিং লাইনে পৌঁছালাম সত্যি তখন অনেক ভালো লাগা কাজ করছিল। নিজের সীমা অতিক্রম করে নতুন একটা স্টেজে গিয়ে মনে হলো আমি যেন নিজেকে জয় করে ফেলেছি। আর এই ভালোলাগাটা নিজের মধ্যে আত্মবিশ্বাস জাগ্রত করেছে, যা আমাকে আমার পরবর্তী লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য অনুপ্রাণিত করবে।’
আরাফাতের ছেলেবেলা কেটেছে নিজ গ্রামে, নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ থানার মুছাপুর গ্রামে। নিজ এলাকা থেকে মাধ্যমিকের পর্ব চুকিয়ে উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি হন ঢাকা কমার্স কলেজে। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করে ব্যাংকার হিসাবে কর্মজীবন শুরু করেন। বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। রোমাঞ্চপ্রিয় এই তরুণের এবারের ইচ্ছে ইংলিশ চ্যানেল পারি দেবার। আরাফাত একটি সুস্থ-সুন্দর বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেন। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তরুণদের নিয়ে কাজ করতে চান।
ইত্তেফাক/এসটিএম