জাপার মহাসচিব পদ নিয়ে উত্তেজনা, সিনিয়র নেতাদের বৈঠকে হুঁশিয়ারি

জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু মারা যাওয়ায় শূন্য হওয়া জাতীয় পার্টির (জাপা) মহাসচিব পদ নিয়ে দলটিতে প্রকাশ্য বিরোধ চলছে। জাপার মহাসচিব জিয়াউদ্দিন বাবলু শনিবার সকালে মারা যাওয়ার পর গতকাল সোমবার পর্যন্ত মহাসচিব পদে কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। তবে সিনিয়র নেতাদের দাবি, তাদের কাছে খবর রয়েছে পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও গাইবান্ধা-১ আসনের দলীয় এমপি ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারীকে মহাসচিব করার ‘সিদ্ধান্ত’ নিয়েছেন। এমন খবর পেয়ে সিনিয়র কয়েকজন নেতা নিজেরা বৈঠক করে শামীম হায়দারকে মহাসচিব না করার অনুরোধ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সিনিয়র কাউকে মহাসচিব করার আলটিমেটাম দিয়ে তারা বলেছেন, অন্যথায় অনাকাঙ্ক্ষিত যে কোনো ঘটনার দায় দলের চেয়ারম্যানকে নিতে হবে।

দলের কো-চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশীদ এমপির কলাবাগানের অফিসে গতকাল বিকালে দীর্ঘ বৈঠক করেন কয়েক জন সিনিয়র নেতা। বৈঠকে ফিরোজ রশীদ ছাড়াও দলের আরো তিন জন কো-চেয়ারম্যান এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা ও মুজিবুল হক চুন্নু, প্রেসিডিয়াম সদস্য মসিউর রহমান রাঙ্গা, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও অতিরিক্ত মহাসচিব সাহিদুর রহমান টেপা, প্রেসিডিয়াম সদস্য শফিকুল ইসলাম সেন্টু ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জাপার সাধারণ সম্পাদক জহিরুল আলম রুবেল উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে জাপার কো-চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশীদ ইত্তেফাককে বলেন, ‘দলের সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ও কো-চেয়ারম্যানদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই জি এম কাদের সাহেব সম্পূর্ণ স্বৈরাচারী পন্থায় একক সিদ্ধান্তে শামীম হায়দারকে মহাসচিব করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে আমরা জেনেছি। শামীম অত্যন্ত জুনিয়র ও অর্বাচীন। তাকে মহাসচিব করা হলে দলের কার্যালয়ে তালা দেবেন নেতাকর্মীরা। একই সঙ্গে সারা দেশে জেলায় জেলায় জি এম কাদের ও শামীম হায়দারের কুশপুত্তলিকা দাহ করা হবে।’

ফিরোজ রশীদ আরো বলেন, ‘আমাদের কথা হচ্ছে, সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে আলোচনাক্রমে নতুন মহাসচিব নিয়োগ করতে হবে। সম্মেলনের আগ পর্যন্ত প্রয়োজনে অতিরিক্ত মহাসচিবদের মধ্য থেকে জ্যেষ্ঠতমকে আপাতত ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করা যেতে পারে অথবা কো-চেয়ারম্যানদের মধ্য থেকে যে কাউকে মহাসচিব করতে হবে। এর ব্যত্যয় ঘটলে দলের নেতাকর্মীরা মেনে নেবেন না।’

জাপার নতুন মহাসচিব পদে আলোচনায় রয়েছেন দলটির কো-চেয়ারম্যান এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার ও সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য মসিউর রহমান রাঙ্গা, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও অতিরিক্ত মহাসচিব সাহিদুর রহমান টেপা এবং প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী এমপি। এছাড়া দলের কো-চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশীদ ও মুজিবুল হক চুন্নুর নামও বিশেষভাবে আলোচনায় রয়েছে।

পরবর্তী মহাসচিব নিয়োগের বিষয়ে জাপার চেয়ারম্যান জি এম কাদের রবিবার ইত্তেফাককে বলেছেন, ‘সময়মতো মহাসচিব পদে নিয়োগ দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে আমি একটা কথা খুব ক্লিয়ার বলে দিতে চাই, চেয়ারম্যান ও মহাসচিব হচ্ছেন পার্টির ফেইস (চেহারা)। চেয়ারম্যান ও মহাসচিবের ইমেজের (ভাবমূর্তি) ওপরই পার্টির ইমেজ নির্ভর করে। যাকে মহাসচিব করলে দেশের মানুষ খুশি হবে, এরকম কাউকেই করা হবে।’

গতকাল ফিরোজ রশীদের অফিসে বৈঠকে মুজিবুল হক চুন্নু বলেছেন, শামীম হায়দারকে মহাসচিব করা হলে মেনে নেওয়া হবে না। সিনিয়রদের বাদ দিয়ে তাকে মহাসচিব করা হলে অনাকাঙ্ক্ষিত যে কোনো ঘটনার দায় পার্টির চেয়ারম্যানকে বহন করতে হবে। মসিউর রহমান রাঙ্গা ঐ বৈঠকে বলেছেন, ‘শামীম হায়দারকে মহাসচিব করা হলে তাকে বৃহত্তর রংপুরে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হবে। জাপার বনানী ও কাকরাইলের কার্যালয়ে তালা লাগিয়ে দেওয়া হবে। এছাড়া সারা দেশে জি এম কাদের ও শামীম হায়দারের কুশপুত্তলিকা পোড়ানো হবে।’

রুহুল আমিন হাওলাদার জাপার সবচেয়ে দীর্ঘসময় মহাসচিব ছিলেন। তিনি নিজে মহাসচিব হওয়ার বিষয়ে আগ্রহ ব্যক্ত না করলেও দলের নেতাকর্মীদের একাংশ তাকে মহাসচিব হিসেবে পেতে চান। দীর্ঘ সময়ে দলের প্রতি অবদান, সাংগঠনিক দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার বিচারে এই অংশটি তাকে মহাসচিব করার পক্ষে।

এদিকে, জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য ও জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসনে দলটির সংসদ সদস্য অধ্যাপিকা মাসুদা এম রশীদ চৌধুরীর মৃত্যুতে শূন্য হওয়া আসনে একজনকে মনোনয়ন দিতে যাচ্ছে জাপা।