কলকাতা টিভিকে কেন্দ্রীয় সরকারের শোকজে ক্ষুব্ধ বাম-কংগ্রেস-তৃণমূল

ভারতে কলকাতা টিভিকে লাইসেন্স নবায়ন নিয়ে শোকজ করেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার। সাতদিনের মধ্যে নোটিসের জবাব দিতে বলা হয়েছে। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস, বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি কেন্দ্রীয় সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি সবাইকে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোরও আহ্বান জানিয়েছেন।

চ্যানেলের সম্প্রচার স্বত্ত্ব নবায়ন নিয়ে কলকাতা টিভিকে গত সপ্তাহে নোটিস পাঠায় ভারতের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। কেন্দ্রীয় সরকার বলছে, জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত যে অনুমোদন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় দেয়, তা কলকাতা টিভির ক্ষেত্রে খারিজ হয়ে গেছে। কলকাতা টিভি বলছে, কোন যুক্তিতে খারিজ হয়েছে তা বলা হয়নি। কেন চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ করে দেওয়া হবে না, সাতদিনের মধ্যে তার জবাব তলব করেছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। নোটিসে জানানো হয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত অনুমোদনের আবেদন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের কাছে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু অমিত শাহ ও নিশীথ প্রামানিকের মন্ত্রণালয় সেই অনুমোদন দিতে চাইনি। সে কারণেই কলকাতা টিভির আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়েছে।

ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া মমতার

গত মঙ্গলবার সকালে গোটা বিষয় প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্যজুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠে। বিজেপির দমন-পীড়নের নীতির বিরুদ্ধে একযোগে সরব হয়েছে বাম-কংগ্রেস-তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি কেন্দ্রের কাছে আবেদন করেন, ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা দেখিয়ে কলকাতা টিভি বন্ধ করবেন না। কলকাতা টিভি নিষিদ্ধ করা হলে বাংলার মানুষ তা মেনে নেবে না। এই প্রসঙ্গে মমতা বলেন, কোন মিডিয়া কাকে সাপোর্ট করবে তা তাদের নিজস্ব ব্যাপার। যে বিরোধিতা করছে, তাকেই নিষিদ্ধ করা হচ্ছে, না হলে মামলা দেওয়া হচ্ছে। গোটা বিষয়টি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বলেও মন্তব্য করেন মমতা। কলকাতা টিভির পাশে থাকার বার্তাও দেন মুখ্যমন্ত্রী। কলকাতা প্রেস ক্লাবকেও প্রতিবাদ জানাতে বলেন। মমতার কথায়, কলকাতা টিভি জনপ্রিয় চ্যানেল। কলকাতা টিভি নিষিদ্ধ করা হলে বাংলার মানুষ তা মেনে নেবে না। কলকাতা টিভির দর্শক বাংলার ছাড়াও গোটা দেশে রয়েছে।

তৃণমূল বিধায়ক ডেরেক ও ব্রায়েন টুইটারে লিখেছেন, যখন টিভি চ্যানেল, সংবাদপত্র এবং প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সাংবাদিকেরা সত্য উন্মোচন করে এবং মোদির বিজেপি সরকারের তোষামোদ করে না, তখন তার ফলাফল এটাই হয়। গণমাধ্যম একজোট হোক। বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু বলেন, চতুর্থ স্তম্ভ অনুষ্ঠানটি আমি নিয়মিত দেখি। এখানে যথেষ্ট নিয়ম মেনে সমালোচনা করা হয়। কিন্তু ফ্যাসিবাদীদের মতো কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করছে বিজেটি। সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী জানিয়েছেন, কোনও নির্দিষ্ট অনুষ্ঠান পছন্দ নাই হতে পারে। কিন্তু সম্প্রচার বন্ধ করে দেওয়া কাম্য নয়।