বিমানযাত্রীর কাছে মাদক পাওয়া গেলে চিরতরে বিদেশ যাওয়া বন্ধ

বিমানবন্দর দিয়ে বিদেশগামী বা আগত কোনো যাত্রীর কাছে মাদক পাওয়া গেলে চিরদিনের জন্য তার বিদেশ গমন বন্ধ হবে বলে জানিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। গতকাল সোমবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীদের অভিযোগ নিয়ে করা গণশুনানিতে এ কথা জানান বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম মফিদুর রহমান। তিনি বলেন, আমরা দেখছি বিভিন্ন বিমানবন্দরে মাদক পাচার বেড়েছে। এসব প্রতিহত করতে হবে আমাদের সবাইকে মিলে। আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। মাদক পাওয়া গেলে চিরদিনের জন্য বিদেশে যাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে।

যাত্রীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা নিজস্ব লাগেজ ছাড়া অন্য কারো কাছ থেকে কিছু নেবেন না। আমরা দেখছি, অনেকের লাগেজে মাদক পাওয়া যাচ্ছে। অনেক যাত্রী দাবি করেন, স্বজন মালামাল পাঠানোর নামে মাদক ঢুকিয়ে দিয়েছেন। এ ধরনের বক্তব্য আমরা গ্রহণ করব না। আপনারা সচেতন হবেন, যাতে কেউ ভুক্তভোগী না হন।

যাত্রীদের নির্দিষ্ট সময়ের আগে বিমানবন্দরে আসার আহ্বান জানিয়ে বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, যাত্রীদের ফ্লাইটের কমপক্ষে আট ঘণ্টা আগে বিমানবন্দরে আসতে হবে। তাহলে এ সময়ে করোনা টেস্টসহ যাবতীয় কার্যক্রম শেষ করা যাবে। এম মফিদুর রহমান বলেন, গত দুই গণশুনানিতে যেসব সমস্যা পেয়েছি সেগুলো সমাধান করা হয়েছে। ট্রাভেল এজেন্সি নিয়ে অনেক অভিযোগ ছিল, সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছি। আর বিমানবন্দরের নিরাপত্তার ব্যাপারেও আমরা সিরিয়াস। বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনার জন্য আমরা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পেয়েছি। আমরা চেষ্টা করছি, যাত্রীসেবার মান আরো বাড়াতে।

গণশুনানিতে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ এইচ এম তৌহিদ-উল আহসানসহ বিভিন্ন এয়ারলাইনসের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বেবিচকের তথ্য মতে, গণশুনানিতে ১৪ প্রবাসী তাদের সমস্যা ও অভিযোগ তুলে ধরেন। যাত্রীদের একজন অভিযোগ করেছেন, টাকা না দিলে বিমানবন্দরের কাস্টমস কর্মকর্তারা কাজ করেন না। টাকা দিলে পণ্য ছাড়করণের সিরিয়াল আগে দেওয়া হয়। এছাড়াও ফ্লাইট মিস হলে টিকিট রি-ইস্যু করার ক্ষেত্রে বিমানবন্দরে এয়ারলাইনসগুলো যাত্রীদের কোনো সহযোগিতা করে না।