বিশ্ব জুড়ে ফেসবুক, মেসেঞ্জার হোয়াটসঅ্যাপ সেবায় বিঘ্ন

বিশ্ব জুড়ে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার ও ইনস্টাগ্রাম অচল হয়ে পড়েছে। গতকাল সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৯টার পর থেকে এসব সামাজিকমাধ্যমে প্রবেশ করতে পারছেন না ব্যবহারকারীরা। গতকাল রাত পৌনে ১টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সার্ভার সচল হয়নি।

ফেসবুকের ওয়েবসাইট ব্রাউজ করলে একটি বার্তা দেখতে পাচ্ছেন ব্যবহারকারীরা। বার্তায় বলা হচ্ছে, ‘সরি, সামথিং ওয়েন্ট রং, উই আর ওয়ার্কিং অন ইট অ্যান্ড উই উইল গেট ইট ফিক্সড এজ সুন এজ পসিবল।’

এদিকে টুইটারে প্রকাশিত ফেসবুকের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমরা সচেতন যে, কিছু ব্যবহারকারী আমাদের অ্যাপ এবং পণ্যে প্রবেশ করতে সমস্যায় পড়ছেন। আমরা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সমস্যাগুলো সারিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার জন্য কাজ করছি। যে কোনো সাময়িক অসুবিধার জন্য আমরা দুঃখিত।’ তবে কী কারণে এই বিপত্তি ঘটল, সে বিষয়ে কোনো ধারণা তারা দেয়নি। এমনকি কতক্ষণে সচল হবে সেটাও বলেনি।

বাংলাদেশের ব্যবহারকারীরা বলছেন, ফেসবুক পেইজেই তারা ঢুকতে পারছেন না। মেসেঞ্জারেও সমস্যা হচ্ছে। হোয়াটসঅ্যাপ থেকেও কোনো বার্তা পাঠানো যাচ্ছে না। যুক্তরাজ্য, ভারত ও ফিলিপিন্সের ব্যবহারকারীরাও একই ধরনের সমস্যায় পড়ছেন বলে খবর দিয়েছে বিভিন্ন দেশের একাধিক সংবাদমাধ্যম।

বাংলাদেশের একটি ইন্টারনেট গেটওয়ে প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, বাংলাদেশে রাত সাড়ে ৯টা থেকে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপের সার্ভার ডাউন। এ নিয়ে বিভিন্ন দেশের হাজার হাজার ব্যবহারকারী ডাউন ডিটেকটরডটকমে অভিযোগ করেছেন। ডাউন ডিটেকটর হচ্ছে একটি অনলাইন সাইট যারা বিভিন্ন সাইট বা অনলাইন সেবা বিপর্যস্ত হলে তা নিয়ে তথ্য প্রকাশ করে। সেখানে ২০ হাজারের বেশি ব্যবহারকারী অভিযোগ করেছেন।

সামাজিকমাধ্যম ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ মার্কিন জায়ান্ট ফেসবুকের মালিকানাধীন অ্যাপ। এর আগে ২০১৯ সালে এমন দীর্ঘ সময়ের জন্য অচল হয়ে পড়েছিল ফেসবুক। সে সময় প্রায় এক ঘণ্টা ফেসবুকের সার্ভার ডাউন থাকে। ফেসবুক এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এ বিভ্রাট ঘটে।

বিশ্বের বড় বড় ওয়েবসাইট ও অ্যাপ সাধারণত কনটেন্ট ডেলিভারি নেটওয়ার্ক (সিডিএন) বিভ্রাটের কারণে অচল হয়ে পড়ে। গত জুনে সিডিএন বিভ্রাটে অ্যামাজন, রেডিট, নিউ ইয়র্ক টাইমস, বিবিসি, সিএনএনর মতো ওয়েবসাইট অচল হয়ে পড়েছিল।

প্রসঙ্গত, ফেসবুকের মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারী এখন ২৯০ কোটি। অর্থাত্ বিশ্বব্যাপী এই পরিমাণ অ্যাকাউন্ট থেকে মাসে একবার হলেও ফেসবুকে লগইন করা হয়। এই ব্যবহারকারীদের ৪ কোটি ৮০ লাখই বাংলাদেশে।