গত ১০ মাসে তুলার দাম বেড়েছে ৩৫ শতাংশ

দাম আরো বাড়লে আমদানি নির্ভরতা বাড়ার আশঙ্কা

ইত্তেফাক রিপোর্ট   

ফের বাড়তে শুরু করেছে তুলার দাম। আন্তর্জাতিক বাজারে গতকাল প্রতি পাউন্ড কটনের দাম ছিল প্রায় ১ দশমিক ০৬ ডলার। যা গত এক দশকে সর্বোচ্চ। এর আগে ২০১০-১১ সালের দিকে প্রতি পাউন্ড কটনের দাম সর্বোচ্চ ১ দশমিক ৬০ ডলারে উঠেছিল। এছাড়া গত ১০ মাসে তুলার দাম বেড়েছে ৩৫ শতাংশ। নতুন করে দাম বাড়ার ফলে স্থানীয় বাজারসহ রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্পের কাঁচামাল ইয়ার্নের দামও বাড়তে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে টেক্সটাইল মিল মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএম)।

গতকাল মঙ্গলবার সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন সাংবাদিকদের জানান, আগামী নভেম্বরের জন্য ইয়ার্নের জন্য যেসব প্রোফরমা ইনভয়েস (বিক্রির জন্য অফার করা মূল্য বা পিআই) ইস্যু করা হবে, তা ১৫ শতাংশ হারে বাড়তে পারে। তিনি এজন্য রপ্তানিমুখী পোশাকশিল্প মালিকদের অনুরোধ জানিয়েছেন, যাতে বিদেশি ক্রেতার সঙ্গে মূল্য নেগোসিয়েশনের সময় বর্ধিত মূল্য যাতে মাথায় রাখা হয়।

অবশ্য তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক সংগঠনের প্রতিনিধিরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে কটনের দাম বাড়লে বাংলাদেশে এর দ্বারা তৈরি ইয়ার্নের দাম বাড়া উচিত হবে আগামী তিন মাস পর। এর আগে দাম বাড়ানো যৌক্তিক হবে না। যদি দাম বাড়ে, তাহলে স্থানীয় বাজার থেকে ইয়ার্ন নেওয়ার বদলে আমদানি নির্ভরতা বেড়ে যাবে।

গত বছরের শেষ দিকে বিশ্ববাজারে কটনের দাম বাড়তে থাকে, যার প্রেক্ষিতে স্থানীয় বাজারে ইয়ার্নের দাম বাড়ে। সর্বশেষ গত তিন মাস থেকে ইয়ার্নের দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়তে থাকে এবং এতে স্থানীয় স্পিনিং মিলমালিকরা অস্বাভাবিক মুনাফা করছেন বলে অভিযোগ তোলে পোশাকশিল্প মালিকরা। যদিও স্থানীয় স্পিনিং মিলমালিকরা বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিলেন। এদিকে কটনের দাম ১ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় তৈরি পোশাকশিল্পের দুই সংগঠন বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএর সঙ্গে এক মাস আগে একটি সমঝোতা হয়েছে বলে জানান বিটিএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন।

বিটিএমএ সভাপতি বলেন, সমঝোতা অনুযায়ী বর্তমান অবস্থায় ইয়ার্নের মূল্য বর্তমানের দরে রাখা সম্ভব হবে না বলে আশঙ্কা করছি। আমরা আরো দুই সপ্তাহ কটনের আন্তর্জাতিক দর পর্যবেক্ষণ করব। এর পরও না কমলে দাম বাড়াতে হবে। সেক্ষেত্রে স্পিনিং মিলগুলো আগামী নভেম্বর মাসের জন্য যেসব পিআই ইস্যু করা হবে, তা সমঝোতা অনুযায়ী দামের চেয়ে বাড়তি ১৫ শতাংশ বাড়বে।