তালার অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নেই প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক

তালা (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা

করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সচল হয়েছে। কিন্তু সচল হলেও তালা উপজেলার অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক এবং সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় পাঠদান কার্যক্রম চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন শিক্ষকরা। আবেদন নিবেদন জানিয়েও এসব শূন্য পদ পূরণ হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে করোনার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিফট আকারে ক্লাস পরিচালনা করতে হচ্ছে। কিন্তু উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক না থাকায় সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হয়ে এক দিকে প্রশাসনিক দপ্তর সামলানো অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। আর শিক্ষক সংকট চরম আকার ধারণ করায় সন্তানদের পড়ালেখা নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা। অভিভাবকরা জানান, দীর্ঘদিন যাবত্ বন্ধ থাকার পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলতে শুরু করেছে। স্কুলে ফিরতে শুরু করেছে শিক্ষার্থীরা। কিন্তু শিক্ষক সংকটের কারণে ঠিকমতো ক্লাস হচ্ছে না। আমাদের সন্তানদের নিয়ে পড়েছি কঠিন বিপাকে।

তালা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক যোহরা পারভীন জানান, আমি সহকারী শিক্ষক হয়েও প্রধান শিক্ষকের ভূমিকা পালন করছি। প্রশাসনিক দিক সামলানোর পর প্রতিদিন ক্লাস নেওয়া খুবই কষ্টকর হয়ে পড়েছে।

তালা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (প্রাথমিক) শেখ মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ২১১টি। এর মধ্যে প্রধান শিক্ষক নেই ২৬টি ও সহকারী শিক্ষক নেই ৩৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। নিয়মানুযায়ী প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪০ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন করে শিক্ষক থাকতে হবে। কিন্তু নিয়মের হিসেব করলে দেখা যায়, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ২০০-৩০০ জন শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষক আছেন তিন-চার জন। শিক্ষক কম থাকায় অনেক সময় ক্লাস বিড়ম্বনায় পড়তে হয় শিক্ষার্থীদের। তিনি জানান, যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে তার তালিকা তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অতি দ্রুত শূন্যপদ পূরণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।