রাজারবাগ দরবারের পিরের সম্পদের পরিমাণ নির্ণয়ে দুদককে হাইকোর্টের নির্দেশ

রাজারবাগ দরবার শরিফের পির দিল্লুর রহমান ও তার প্রতিষ্ঠানসমূহের নামে দেশের বিভিন্ন স্থানে যেসব সম্পদ রয়েছে তা নির্ণয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ঐসব সম্পদের উত্স কি তাও আদালতকে জানাতে বলা হয়েছে। এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের দ্বৈত বেঞ্চের লিখিত আদেশে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আদেশে পির দিল্লুর ও তার পৃষ্ঠপোষকতায় ‘উলামা আঞ্জুমান বাইয়্যিনাত’ অথবা ভিন্ন কোনো নামে কোনো জঙ্গি সংগঠন আছে কি না, সে বিষয়ে খোঁজ নিতে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটকে বলা হয়েছে। ৩০ নভেম্বরের আগে দুদক ও কাউন্টার টেররিজম ইউনিটকে এই আদেশ প্রতিপালন করতে বলা হয়েছে।

এদিকে ভুক্তভোগীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পির দিল্লুর রহমানের বিরুদ্ধে তদন্ত করে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। গত বছরের আগস্ট মাসে কমিশনের দেওয়া প্রতিবেদনে বেশ কিছু সুপারিশ করা হয়। এসব সুপারিশের অন্যতম ছিল :ক. রাজারবাগের কথিত পির দিল্লুর রহমান ও তার প্রতিষ্ঠানসমূহের নামে যেসব সম্পদ রয়েছে তার তালিকা প্রস্তুত করে আয়ের উত্স ও রাজস্ব প্রদানের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে হবে। খ. সাধারণ মানুষকে যেন ধর্মের নামে ধোঁকা দিতে না পারে এবং নিরীহ মানুষের অর্থ-সম্পদ যেন হয়রানিমূলকভাবে মিথ্য মামলা করে হাতিয়ে নিতে না পারে সেজন্য রাজারবাগের কথিত পির দিল্লুর রহমানের মূল আস্তানাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা শাখা কার্যালয়সমূহ বন্ধ করে দিতে হবে। একই সঙ্গে, তার বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক কালো তালিকাভুক্ত জঙ্গি সংগঠন ‘উলামা আঞ্জুমান আল বাইয়্যিনাত’ এবং তার প্রতিষ্ঠানসমূহ কর্তৃক প্রচারিত সংবাদপত্র ‘আল বাইয়্যিনাত ও আল ইহসান’ নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে হবে। তদন্তকালে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের এই প্রতিবেদনকে বিবেচনায় নিতে দুদক ও পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটকে বলা হয়েছে।

রিটকারীগণের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, মানবাধিকার কমিশনের এই রিপোর্ট বাস্তবায়িত হয়নি আজও। ঐ রিপোর্ট বাস্তবায়িত হলে রিটকারীরা মিথ্যা মামলায় বছরের পর বছর জেল খাটতেন না।

প্রসঙ্গত, রাজারবাগ দরবার শরিফ ও এর পিরের সম্পদ এবং ব্যাংক হিসাব তলব চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন আট ব্যক্তি। রিটকারীগণের দাবি, পিরের মুরিদদের দায়েরকৃত মিথ্যা মামলায় তারা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। শুধু হয়রানির শিকারই নন, তারা বছরের পর বছর জেল খেটেছেন। শুধু সম্পদ লিখে না দেওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা দেশের বিভিন্ন জেলায় দায়ের করা হয়েছে। ঐ রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট গত ২৩ সেপ্টেম্বর এই আদেশ দেয়। গতকাল আদেশের লিখিত অনুলিপি প্রকাশ পেয়েছে। আদেশে বিভিন্ন হয়রানিমূলক মামলা দায়েরের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিগণকে চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সিআইডির অতিরিক্ত মহা-পুলিশ পরিদর্শককে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।