প্রবাসীরা চান তাঁদের মৃত্যু হলে যেন মৃতদেহ হাসপাতালের মর্গে মাসের পর মাস পড়ে না থাকে, লাশ দেশে নেওয়ার জন্য সহকর্মীদের অন্য মানুষের কাছে যেন ভিক্ষা করতে না হয়। মৃতদেহ দেশে পাঠাতে যেন পরিবারের ভিটেমাটি বিক্রি করে চার লাখ টাকা জোগাড় করতে না হয়। যে প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধা, সেই রেমিট্যান্স যোদ্ধার মৃত্যুর পর তাঁর মৃতদেহ পড়ে থাকে হাসপাতালের মর্গে। হিম শীতল ঠান্ডা ঘরে মাসের পর মাস পরে থাকতে হয়। এদিকে পরিবারের কান্না শুকিয়ে যায়, তারপরেও প্রিয়জনের লাশ দেশে পৌঁছায় না। দেশে লাশ পাঠাতে হলে গুনতে হয় তিন থেকে সাড়ে চার লাখ টাকা। একটি পরিবারের মূল উপার্জনক্ষম মানুষটিই হাসপাতালের মর্গে পড়ে থাকলে তার পরিবার কীভাবে এতগুলো টাকার ব্যবস্থা করবে?
প্রবাসীরা বিদেশের মাটিতে দিন-রাত কাজ করে দেশকে রেমিট্যান্স দিচ্ছে। সমৃদ্ধ হচ্ছে দেশের অর্থনীতি। আর রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের এ করুণ দশা কখনো সমীচীন নয়। তাই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যে কোনো রেমিট্যান্স যোদ্ধা হোক সে বৈধ কিংবা অবৈধ সে যদি বাংলাদেশি হয়, তাহলে তার লাশ যেন সরকারি খরচে দ্রুত সময়ের মধ্যে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সিফাত নুর
কুয়েত প্রবাসী