‘জাতীয় প্রেসক্লাবের ৬৭ বছরের ইতিহাসে এক সঙ্গে এত বেশি সংখ্যক সদস্যের মৃত্যু এক বিরল ও শোকাবহ অধ্যায়। ক্লাব ও সাংবাদিকতা পেশার অপূরণীয় ক্ষতি। এই শূন্যতা ও মর্মবেদনায় আমরা শোকস্তব্ধ। গত এক বছরে জাতীয় প্রেসক্লাব ৩৪ জন সদস্যকে হারিয়েছে। তারা কেবল জাতীয় প্রেসক্লাবের সদস্য ছিলেন না, ছিলেন জাতীয় সম্পদ। দেশ ও জাতির জন্য তারা অনেক অবদান রেখে গেছেন। যারা এই প্রেসক্লাব তৈরিতে বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন, তাদের যেন আমরা ভুলে না যাই, সে কারণে জাতীয় প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আগে প্রয়াত সদস্যদের স্মরণে এই আয়োজন।’ গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে স্মরণসভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। জাতীয় প্রেসক্লাব এই স্মরণসভার আয়োজন করে। স্মরণসভার শুরুতে প্রয়াতদের স্মরণে দাঁড়িয়ে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় প্রেসক্লাবে সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘প্রয়াত ৩৪ সদস্যের সবাই খুব আপনজন আমাদের। এক পরিবারের এত সদস্যকে হারিয়ে আমরা অত্যন্ত মর্মাহত। আমরা হারিয়েছি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সাংবাদিক হাসান শাহরিয়ারকে। হারিয়েছি বর্তমান ব্যবস্থাপনা কমিটির অন্যতম সিনিয়র সদস্য জাহিদুজ্জামান ফারুককে।’
ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, ‘যারা জাতীয় প্রেসক্লাবকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন, তাদের সম্মান জানাতে এই আয়োজন। এমন স্মরণসভার মাধ্যমে তরুণ সাংবাদিকরা উদ্বুদ্ধ হবেন। তারাও এক জন মিজানুর রহমান, এক জন হাসান শাহরিয়ারের মতো হতে চাইবেন। জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সাইফুল আলম বলেন, ‘ডিজিটালাইজেশনের যুগে আমরা ভুলে যাবার একটা সংস্কৃতি তৈরি করেছি। আমরা মানবিকতার জায়গা থেকে সরে যাচ্ছি। প্রয়াতদের স্মরণ করে তাদের কর্মকে ধারণ করে আমরা এগিয়ে যেতে চাই। ’
ক্লাবের প্রয়াত সদস্য আবুল হাসনাতের স্ত্রী ও বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সভাপতি নাসিমুন আরা হক বলেন, আবুল হাসনাত ৫৬ বছর সাংবাদিকতা করেছে। সাহিত্য পাতায় কতটা কাজ করা যায়, তা তিনি করে গেছেন। ‘সুহূদ-স্বজনের স্বপ্ন-আকাঙ্ক্ষা আমাদের সঙ্গে আছে’—শিরোনামে শোকবাণী উপস্থাপন করেন ক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাঈনুল আলম। প্রয়াত সদস্যদের সংক্ষিপ্ত জীবনী তুলে ধরেন ক্লাবের সিনিয়র সহসভাপতি হাসান হাফিজ ও যুগ্ম সম্পাদক আশরাফ আলী। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সাংবাদিক আবুল কালাম আজাদ, আব্দুল জলিল ভূঁইয়া, কামরুল ইসলাম, ওমর ফারুক, মমতাজ বিলকিস বানু, মসিউর রহমান খান প্রমুখ।