বৃক্ষের ধূসর বর্ণহীন পাতা ঝরে পড়ছে। গাছের শাখা ঢেকে যাচ্ছে কঁচি নতুন পাতায়। কোথায় যেন ডাকছে কোকিল।
আর ফুলের বাগানে শুরু হয়েছে রঙের খেলা। এমন দৃশ্য দেখেই তো কবিরা কবিতার পঙক্তিমালা গাঁথেন।
সাথে যোগ হয়েছে পরের দিনের তরুণ প্রজন্মের কাঙ্ক্ষিত দিন ভ্যালেন্টাইন্স ডে
নাছিমা খাতুন
‘সে’ যাওয়ার আগে, আর ‘ও’ আসার আগে প্রকৃতি জানান দিচ্ছিলো। প্রকৃতির শরীর থেকে শীতের চাদর সরে যাচ্ছে, বসন্তের পোশাকে সাজবে বলে। তাইতো, ক’দিন ধরেই বাতাসে ভাসছিল তার আগমনী বার্তা। বৃক্ষের ধূসর বর্ণহীন পাতা ঝরে পড়ছে। গাছের শাখা ঢেকে যাচ্ছে কঁচি নতুন পাতায়। কোথায় যেন ডাকছে কোকিল। আর ফুলের বাগানে শুরু হয়েছে রঙের খেলা। এমন দৃশ্য দেখেই তো কবিরা কবিতার পঙক্তিমালা গাঁথেন। সাথে যোগ হয়েছে পরের দিনের তরুণ প্রজন্মের কাঙ্ক্ষিত দিন ভ্যালেন্টাইন্স ডে।
ফালগুনের প্রথম দিনে পুরো ঢাকা শহর সাজে ফাগুন সাজে। হলুদ, কমলা ও বাসন্তী রঙের ছোঁয়া সবার মধ্যে। যে যার মতো করে এই দিন ঘুরতে বের হন। কারও সঙ্গে পরিবার বা বন্ধু-বান্ধব। নগর জুড়েও থাকে নানা আয়োজন। প্রতিবছরের মতো এ বছরও বসন্তকে বরণ করা হবে নানা আয়োজনে।
জাতীয় বসন্ত উদযাপন পরিষদ দুই দশক ধরে পয়লা ফাল্গুনে বসন্ত উত্সবের আয়োজন করে আসছে। বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, ফুল ও ছবির প্রদর্শনী, পোশাক, সাজসজ্জা ও দেশজ সংস্কৃতির পরিবেশনার মাধ্যমে বসন্তকে স্বাগত জানানো হয়। সাধারণত দিনের দুটি ভাগে বসন্তের আয়োজন হয়। পয়লা ফাগুনে সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় যন্ত্রসংগীতের পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় বসন্ত উত্সব। একটি শোভাযাত্রার পর শেষ হয় সকালের আয়োজন। দিনভর চলে আড্ডা। বিকেলে একসঙ্গে বকুলতলা, ধানমন্ডির রবীন্দ্রসরোবর ও বাহাদুর শাহপার্কে একযোগে চলে অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে দলীয় সংগীত, আবৃত্তি ছাড়াও থাকে আদিবাসী শিল্পীদের বিশেষ পরিবেশনা। থাকে নবীন ও প্রবীণদের মধ্যে গাঁদাফুলের প্রীতিবন্ধন। আবাহন, সুরের ধারা, ধ্রুবতাল, সপ্তক ইত্যাদি দল পরিবেশনা করে এই আয়োজনে। এ ছাড়া টিএসসি, শাহবাগ, বইমেলা প্রাঙ্গণসহ সব জায়গায় লাগে বসন্তের ছোঁয়া। বুলবুল ললিতকলা একাডেমিসহ (বাফা) বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন সকাল থেকেই আলাদা আয়োজনে মেতে উঠে বসন্তবরণের প্রাণোচ্ছল উত্সবে।
শুধু প্রাণের দুরন্ত আবেগ আর প্রেমে নয়, এ ঋতুতে বাংলার মানুষ জেগে ওঠে দ্রোহে-প্রতিবাদে। বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের মতো বার্তা ছড়ায়, ‘এলো খুনমাখা তূণ নিয়ে/ খুনেরা ফাগুন..।’ মায়ের ভাষায় কথা বলার অধিকার চেয়ে বাংলার তরুণরা রক্ত ঝরিয়েছে এ ঋতুতে। আবার সামরিক-স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়েও রক্ত ঝরিয়েছে এই বসন্তে। তাই দোসরা ফাল্গুন ‘সামরিক-স্বৈরাচার বিরোধী গণতন্ত্র দিবস’। বিদ্রোহ আর উত্সব এ ঋতুতে চলে হাত ধরাধরি করে। মোগল সম্রাট আকবর দূর অতীতে ১৫৮৫ সালে ১৪টি উত্সবের প্রবর্তন করেছিলেন। যার মধ্যে অন্যতম একটি ছিল ‘বসন্ত উত্সব’। এ উত্সব মহানগর ঢাকা থেকে সারাদেশে নতুন করে তরঙ্গিত হতে শুরু করেছে ১৪০১ বঙ্গাব্দ থেকে। পহেলা ফাল্গুনে বসন্ত উত্সবের রঙে মেতে ওঠে তরুণ হূদয়, নতুন করে প্রাণ পান প্রবীণেরা। বসন্তে শুধু প্রকৃতিই নয়, হূদয়ও রাঙা হয়ে ওঠে। বসন্ত তাই অনেকের কাছে ‘প্রেমের ঋতু’। শচীন কর্তার মতো তাই সকলের মনে অনুরণিত হয়‘ শোন গো দখিনা হাওয়া/ প্রেম করেছি আমি’।
বসন্ত আর ভালোবাসা দিবসে নানা আয়োজন: বসন্ত আর ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন ফ্যাশন, মোবাইল কোম্পানি, আইটি প্রতিষ্ঠান নানা আয়োজন ও বিশেষ ছাড় দিয়ে থাকে। সাদাকালো, ক্যাটস আই, এড্রয়েট, মেঘ, আরশীনগর, মুমু মারিয়া, ফড়িং, গীতাঞ্জলি, পারসোনা, বিশ্বরঙ, মুসলিম কালেকশন, ভ্যালেন্টিনা, বার্ডস আইসহ নানা ফ্যাশন প্রতিষ্ঠান বসন্ত আর ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে বিশেষ আয়োজন করে থাকে। এবারের বসন্ত উপলক্ষে চীনা মোবাইল কোম্পানি অপো ফেসবুক ক্যাম্পেইন নিয়ে এসেছে। ভালোবাসার মানুষের সাথে ছবি তুলে অপো’র পেজের কমেন্ট বক্সে পোস্ট দিলে সেখান থেকে বিজয়ী নির্বাচন করে বিশেষ উপহার দেবে প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়াও বিভিন্ন অনলাইন ও ফেসবুক শপে চলে নানা আয়োজন।
ছবি: ইন্টারনেট