ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া ডায়লগ

‘লোক বলে কাজ কই, কাজ বলে লোক কই’

আমাদের দেশে কাজের চাহিদা আছে, কিন্তু দক্ষ লোক নেই। একধরনের চাহিদা ও জোগানের ফারাক আছে। এমন প্রেক্ষিতে বিশেষজ্ঞরা বলেন, ‘পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে লোকে বলে কাজ কই, কাজ বলে লোক কই’। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রকাশিত শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী, ২০১৬-১৭ অর্থবছর শেষে সারা দেশে ২৬ লাখ ৭৭ হাজার বেকার লোক রয়েছেন। এর মধ্যে ৩৯ শতাংশই শিক্ষিত বেকার রয়েছেন যারা উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেও কর্মহীন রয়েছেন। দেশের উচ্চশিক্ষাব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ থাকলেও বাস্তবে কর্মক্ষেত্রে গিয়ে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হন সদ্য পাস করা শিক্ষার্থীরা। অধিকাংশ শিক্ষার্থী তখন বুঝতে পারেন কর্মজীবনের শিক্ষা ও পাঠ্যপুস্তকের শিক্ষার মধ্যে অনেকটা তফাত। তাই কেউ হয়তো ইংরেজি সাহিত্যে ভালো ডিগ্রি নেওয়ার পর চাকরি করছেন মার্কেটিং বা সেলস বিভাগে। মূলত পড়াশোনা ও কর্মক্ষেত্র একে অপরের পরিপূরক। এক্ষেত্রে বাস্তবমুখী শিক্ষা অত্যাবশ্যক।  এমন ভারসাম্যহীনতা দূর করার জন্য কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (সিইউবি) ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। গত ২৩ জানুয়ারি প্রথমবারের মতো ‘ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া ডায়লগ’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে ইউনিভার্সিটির বনানী ক্যাম্পাসে। অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য প্রদান করেন এফবিএইচআরও-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও আইসিডিডিআর,বি-এর মানবসম্পদ প্রধান মো. মোশাররফ হোসেন এবং ডায়লগে মডারেটর হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কানাডিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ড. নজরুল ইসলাম। সভায় চাকরিদাতাদের চাহিদা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার ধরনের মাঝে পার্থক্য কমানোর লক্ষ্যে করণীয় সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। আলোচনায় অংশ নেওয়া বিভিন্ন কর্পোরেট হাউসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষাবিদদের মতামতগুলো নিয়েই আমাদের এ আয়োজন।

‘প্রচুর উচ্চশিক্ষিত লোকবল থাকলেও কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো উপযুক্ত লোকবল খুঁজে পাচ্ছে না। এই শূন্যস্থান রেখে সামনে এগোনোর বিলাসিতা করার কোনো সুযোগ নেই।’

—মো. মোশাররফ হোসেন

হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট,

হেড অব আইসিডিডিআর,বি, ঢাকা।

 

‘এমন একটি যুগোপযোগী বিষয়ে   কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটিই প্রথম এমন একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও নেওয়া হবে বলে আশা করি।’

—শাহনুল হাসান খান

এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান,

কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ

‘আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার কারিগরি ও ব্যবহারিক শিক্ষার আবশ্যকতার প্রতি আরও বেশি মনোযোগী হতে হবে।’

—মঈনউদ্দিন চৌধুরী

প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড সিইও

সোসাইটি ফর লিডারশিপ স্কিলস ডেভেলপমেন্ট

‘শিক্ষার্থী ও চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বোঝাপড়ার যে দূরত্ব রয়েছে। এর সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থীদের জন্য অ্যাটিটিউড ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রামের আয়োজন

করতে পারে।’

—নুরে এ. খান

হেড অব ফ্যাক্টরি, এনভয় গ্রুপ

‘FBHRO এর জন্য এই রকম একটি অনুষ্ঠান হচ্ছে প্রারম্ভ এবং এই বাস্তবিক চিন্তাটি কখনই সীমাবদ্ধ না রেখে জাতীয় পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে হবে। আমি নিশ্চিত যে এটাই এই আয়োজনের প্রধানতম অর্জন।’

—কাজী এম. আহমেদ

ফাউন্ডার অ্যান্ড সিইও,

ফিউচার লিডারস

‘পাঠদানের সময়ে ব্যবসা ক্ষেত্রের উদাহরণগুলো বিভিন্ন সেক্টর থেকে নেওয়া উচিত। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এদেশের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় এনে এই কেস স্টাডিগুলো নির্বাচন করা উচিত। সেজন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের আর অ্যান্ড ডি বিভাগের শিল্প মালিকদের সঙ্গে এই বিষয়ে নিয়ে আলোচনায় বসা উচিত।’

—এম. সাব্বির আলী

ডিরেক্টর, এইচআর, সিটি গ্রুপ

‘মানবসম্পদ বিভাগ সকল প্রকার কৌশলগত সিদ্ধান্তকে বাস্তবে রূপান্তরিত করতে কাজ করে থাকে। একারণে তারা হিসাববিজ্ঞান, ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং খাতেও দক্ষতা অর্জন করে। সেজন্য গ্র্যাজুয়েটদের সব ধরনের অভিজ্ঞতা একান্ত প্রয়োজন।’

—মো. তাহমিদ হোসেন

জিএম-এইচআর অ্যান্ড অ্যাডমিন

বসুন্ধরা গ্রুপ

‘সিইউবি-এর স্লোগান হলো—Inspiring Applied Knowledge. আমরা এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্বমানের গ্র্যাজুয়েট তৈরির লক্ষ্য কাজ করে যাচ্ছি। সিইউবি-এর গ্র্যাজুয়েটদের ইন্ডাস্ট্রির উপযোগী করে গড়ে তুলতে এই আয়োজন ভবিষ্যতে মাইলফলক হয়ে থাকবে।’

—ড. এম. মামুন আল বশির

পরিচালক, এমবিএ ও ইএমবিএ প্রোগ্রাম, কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ

‘আমাদের নিজস্ব ইতিহাসকে জানতে হবে। কেবল ম্যাক ডোনাল্ডস-এর গল্প না, আমাদের নোমান গ্রুপ-এর ইতিহাস পর্যালোচনার মাধ্যমে উপলব্ধি করতে হবে কী করে আমরা শূন্য থেকে সাফল্য পেতে পারি।’

—এম. এ. হাসেম

চিফ হিউম্যান রিসোর্স অফিসার

মেঘনা গ্রুপ

‘তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে শিল্পকারখানার শক্তি জ্ঞান শক্তিতে রূপান্তরিত হয়েছে। ইন্ডাস্ট্রিজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে আনার লক্ষ্যে এ দুটি সেক্টরের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরির উদ্যোগ

 নিতে হবে।’

—প্রফেসর ড. মাহ্ফুজুল ইসলাম

ভাইস চ্যান্সেলর,

কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ

‘চাকরিদাতারা সুনির্দিষ্টভাবে প্রার্থীদের মধ্যে প্রথমত শেখার আগ্রহ, দ্বিতীয়ত কারিগরি ও ব্যবহারিক শিক্ষায় দক্ষতা খুঁজে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর এই বিষয়গুলোতে আরও জোর দেওয়া উচিত।’

—ড. মো. হাসানুর রাইহান জোয়ারদার

ডিরেক্টর, আইবিইআর,

ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি

‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে তাদের প্রণীত পাঠ্যক্রমের জন্য ইউজিসির কাছে জবাবদিহিতার মুখোমুখি করা উচিত। যাতে করে বাস্তবমুখী শিক্ষা প্রদানে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বাধ্য হয়। ’

—এ. বি. এম. ওসমান গনি

ভাইস প্রেসিডেন্ট

ইনস্টিটিউট অব পারসনেল ম্যানেজমেন্ট

 

‘বিমা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নীতিমালায় যথাযথভাবে জনবিন্যাস করতে পারছে না। আরও উন্নয়নমুখী হতে বিমা প্রতিষ্ঠানে পরিসংখ্যান বিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। যেটা গ্র্যাজুয়েটরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিখছে না।’ 

—এনামুল হক

সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স

‘কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন কর্মপদ্ধতি ও কলাকৌশলের পরিবর্তন করা হচ্ছে। কিন্তু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সেদিকে নজর দিচ্ছে না। এই শূন্যস্থান দূর করতে আমাদের এই আয়োজন। আমরা চাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে কোনো দূরত্ব থাকবে না।’

—প্রফেসর ড. নজরুল ইসলাম

প্রো ভাইস চ্যান্সেলর,

কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ

এছাড়াও অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ-এর বিজনেস স্কুলের বিভাগীয় প্রধান এস. এম. আরিফুজ্জামান ও অ্যাসিস্টেন্ট প্রফেসর মো: লতিফুল খাবির, নর্দান তোসরিফা গ্রুপের চিফ অপারেটিং অফিসার আরমানুল আজিম, ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লি.-এর ম্যানেজার-এইচআর জাকির খান, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সিনিয়র লেকচারার, বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন খাদিজা রহমান তানচি, আমান গ্রুপ-এর জিএম-এইচআর, সিএইচও মো. হানিফুর রহমান, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ডিরেক্টর এমআইএইচআরএম প্রোগ্রাম ড. ফরিদ এ. সোবহানী, লায়ন ওয়াহিদুজ্জামান বাবর, শান্তা হোল্ডিংস লিমিটেড-এর হেড অব এইচআর মেজর ইরশাদুর রহমান, টাইগার আইটি লিমিটেড-এর ম্যানেজার মো. নুরুল ইসলাম, সিটি ব্যাংক বাংলাদেশের হেড অব এইচআর আসিফ জামান।