দীর্ঘ ২১ বছর পর অবশেষে বিসিএস ক্যাডার পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন ড. সুমনা সরকার। বৃহস্পতিবার বিকালে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) এক বিজ্ঞপ্তিতে ২৩তম বিশেষ বিসিএসে (স্বাস্থ্য) সহকারী সার্জন হিসেবে নিয়োগের জন্য তাকে সুপারিশ করেছে। পিএসসির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ক্যাডার) নূর আহমদ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুমনা সরকার ইত্তেফাককে বলেন, দীর্ঘ ২১ বছরের সংগ্রামের ফল পেলাম। বাবা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিলেন। আমার যুদ্ধ ছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে। সেই যুদ্ধে আমি বিজয়ী হয়েছি। রায়ে আদালত বলেছে ভাইভায় উত্তীর্ণ হলে আমার বয়স অনুযায়ী সিনিয়রিটি ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে। আশা করি সিনিয়রিটি পাব। চিকিত্সক সুমনা সরকার অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় ২৩তম (বিশেষ) বিসিএসের প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। সুমনা সরকারের বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক অমল কৃষ্ণ সরকারের মুক্তিযোদ্ধা সনদ নিয়ে জটিলতার অভিযোগে পিএসসি সুমনার মৌখিক পরীক্ষা নেয়নি। পরবর্তী সময়ে তিনি আদালতে দ্বারস্থ হন। আইনি লড়াইয়ে জিতেছেন তিনি। দীর্ঘ ২১ বছর পর আদালতের রায় অনুযায়ী গত ১৬ সেপ্টেম্বর পিএসসি সুমনা সরকারের মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণ করে।
২০০০ সালে পিএসসির নেওয়া মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ২৩তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষায় স্বাস্থ্য ক্যাডারের প্রার্থী ছিলেন সুমনা। ঐ বছরের মার্চে প্রিলিমিনারি এবং এপ্রিলে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ২০০০ সালের জুনে মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষায়ও উত্তীর্ণ হন। মুক্তিযোদ্ধা সনদ নিয়ে জটিলতার অভিযোগে চূড়ান্ত মৌখিক পরীক্ষা থেকে বাদ পড়েন তিনি। সুমনা যখন পরীক্ষা দিয়েছিলেন, তখন বড় ছেলে পেটে ছিল। সেই ছেলে এখন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।
সুমনা বর্তমানে চট্টগ্রামের লায়ন্স দাতব্য চক্ষু হাসপাতালে চক্ষু বিশেষজ্ঞ হিসেবে কর্মরত। সুমনার শ্বশুরবাড়ি চট্টগ্রামে। সুমনা সরকার বিষয়টির প্রতিকার চেয়ে হাইকোর্টে রিট পিটিশন করেন ২০০৯ সালে। ২০১৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর মামলার রায় হয়। হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে আপিল করে পিএসসি। আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত ২০১৬ সালের ১০ অক্টোবর হাইকোর্টের রায় স্থগিত করে দেয়। পরে গত বছরের ১৯ নভেম্বর আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল নিষ্পত্তি হলে পিএসসিকে অসমাপ্ত মৌখিক পরীক্ষা নেওয়ার নির্দেশ দেয় আদালত।
ইত্তেফাক/জেডএইচডি