৪০তম বিসিএস পরীক্ষার ফরম পূরণে প্রতারণার ঘটনায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেটের স্পন্দন কম্পিউটার দোকানের মালিকসহ ৩ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। শনিবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য বিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী আব্দুল মমিন বাদী হয়ে নগরীর মতিহার থানায় মামলা করেন। এদিকে মোস্তাকের কাছ থেকে ফরমের টাকা উদ্ধার করে ভুক্তভোগী ২১৫ শিক্ষার্থীকে ফেরত দিয়েছেন রাবি প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান।
মামলার আসামিরা হলেন- দোকান মালিক মোস্তাক আহমেদ মামুন (৩০) ও তার সহযোগী রফিকুল ইসলাম আকাশ (১৯) এবং মোস্তাকের দোকানের পাশে ভাই ভাই কম্পিউটার দোকানের মালিক আরিফ হোসেন (২৪)। তাদের গ্রেপ্তারের পর আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন নগরীর মতিহার থানার অফিসার ইনচার্জ শাহাদাত হোসেন খান।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ‘আমি গত ৩১ অক্টোবর মোস্তাকের দোকান থেকে বিসিএস পরীক্ষার ফরম পূরণ করি। পরে গত বৃহস্পতিবার আমার ইউজার আইডি আর পাসওয়ার্ড দিয়ে পিএসসি’র ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে দেখতে পাই, আমি সুস্থ্য স্বাভাবিক হওয়ার পরও আমাকে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হিসেবে দেখানো হয়েছে। ওইদিনই আমি তার দোকানে গিয়ে জানতে পারি সে আরও দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর ফরম পূরণে প্রতারণা করে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ছয়শ টাকা করে আত্মসাৎ করেছেন।’
আরও পড়ুন: প্রাক্তন প্রেমিককে পেতে ধর্ষণের মিথ্যা অভিযোগ করে মেয়েরা: ভারতীয় মুখ্যমন্ত্রী
অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, ‘আমরা মোস্তাকের কাছ থেকে এক লাখ ৪৫ হাজার টাকা উদ্ধার করেছি। এখন পর্যন্ত ২১৫ জনকে টাকা ফিরিয়ে দিয়েছি। যারা এখনও পায়নি তাদেরও টাকা ফেরৎ দেওয়া হবে।’
উল্লেখ্য, এ বছর বিসিএস ফরম পূরণের জন্য পিএসসি থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য আবেদন ফি ৭০৫ টাকা এবং প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য ১০৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। মোস্তাক ও তার সহযোগী প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থীর অজান্তে তাদের প্রতিবন্ধী উল্লেখ করে ফরম পূরণ করে দেয়। পরে গত বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীদের সহায়তায় প্রক্টর ওই ৩ জনকে আটক করে পুলিশে দেয়।
ইত্তেফাক/বিএএফ