ভারতে পাচার হওয়া ২০ কিশোর-কিশোরী ভারতে বিভিন্ন মেয়াদে জেল খেটে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে বাংলাদেশে ফিরেছে। এদের মধ্যে ৯ জন কিশোর ও ১১ জন কিশোরী। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভারতের কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশি ডেপুটি হাইকমিশনার (রাজনৈতিক) শামীমা ইয়াসমিন স্মৃতি।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে তাদের হস্তান্তর করে। এসব কিশোর-কিশোরীদের বাড়ি বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায়। এদের বয়স ১২ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে। দুই থেকে তিন বছর আগে তারা দেশের বিভিন্ন সীমান্তপথে ভারতে পাচার হয়। পাচার প্রতিরোধ নিয়ে কাজ করা এনজিও সংস্থা যশোরের জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার তাদের গ্রহণ করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করবে বলে জানিয়েছে।
জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের যশোর শাখার সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার মুহিত হোসেন জানান, সংসারে অভাব-অনটনের সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন সময় ভালো কাজের কথা বলে দালালরা এদের ভারতে পাচার করে। পরে ভালো কাজ না দিয়ে বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ কাজে তাদের ব্যবহার করে। পরে ভারতীয় পুলিশ খবর পেয়ে তাদের পাচারকারীদের খপ্পর থেকে উদ্ধার করে আদালতে পাঠায়। সেখান থেকে তাদের আশ্রয় হয় ভারতীয় এনজিও সংস্থার শেল্টার হোমে। পরে কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাস তাদের দেশে ফেরার বিষয়ে তত্পরতা শুরু করে। উদ্ধারকৃতরা বাংলাদেশি কি না, তা যাচাই করে কাগজপত্রের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ভারত সরকারের ট্রাভেল পারমিটে বৃহস্পতিবার দেশে ফিরে আসে। দেশে ফেরার পর এদের আইনি সহায়তা দিয়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের ওসি রাজু আহম্মেদ বলেন, সেখানে অবৈধভাবে বিভিন্ন বাসাবাড়িতে কাজ করার সময় পুলিশ তাদের আটক করে এবং আদালতে পাঠায়। সেখান থেকে ‘পশ্চিম বাংলার সাতটি এনজিও সংস্থা তাদের ছাড়িয়ে নিজেদের হেফাজতে নেয় এবং বিভিন্ন শেল্টার হোমে রাখে। পরে তাদের সার্বিক সহযোগিতায় তিন বছর পর তাদের দেশে ফেরত পাঠিয়েছে ভারতীয় পুলিশ।