দলের বিরুদ্ধে মুখ খুললেই খাঁড়া যে নেমে আসবে, তা পরশুর জাতীয় নির্বাহী কমিটির তালিকার মাধ্যমে বুঝিয়ে দিলেন নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহ। লখিমপুর-কান্ডে দল যখন বিড়ম্বনায়, সেই সময়ে উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ সরকারের সমালোচনা করে দলকে আরো অস্বস্তিতে ফেলার জন্য বরুণ গান্ধীকে ব্রাত্য করার সিদ্ধান্ত নেন বিজেপি নেতৃত্ব। বাদ যান তার মা মানেকা গান্ধীও। তেমনি হরিয়ানার সাংসদ রাও ইন্দ্রজিত্ সিংহ ও চৌধুরী বীরেন্দ্র সিংহ প্রকাশ্যে বেশ কয়েক বার সরকারের কৃষি নীতির সমালোচনা করায় দলের তোপে পড়েছেন। বাদ পড়েছেন দলের অন্দরে মোদি-শাহের বিরোধী বলে পরিচিত বসুন্ধরা রাজের ছেলে দুষ্মন্ত সিংহ। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।
সব মিলিয়ে পরশুর তালিকা জে পি নড্ডার নামে প্রকাশিত হলেও, রাজনীতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, যারাই দলে সরকারের দুই শীর্ষ নেতার বিরোধী বলে পরিচিত, তারাই স্থান পাননি নতুন কমিটিতে। তাদের বেছে বেছে বাদ দেওয়া হয়েছে। ঐ তালিকায় স্থান হয়নি একদা সুষমা স্বরাজ ঘনিষ্ঠ সুরেন্দ্র সিংহ অহলুওয়ালিয়ারও। বিজেপি সূত্রের খবর, মূলত উত্তরপ্রদেশের নির্বাচনের কথা মাথায় রেখেই ঐ তালিকা তৈরি করা হয়েছে। নতুন কমিটির তালিকায় ১৩ জন সদস্য রয়েছেন কেবল উত্তরপ্রদেশ থেকেই। সব মিলিয়ে উত্তরপ্রদেশের প্রতিনিধিদের সংখ্যাটি প্রায় ৪০-এর কাছাকাছি। কিন্তু তাত্পর্যপূর্ণভাবে ঐ তালিকায় এমন কিছু নাম নেই, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে পদ্মশিবিরের অভ্যন্তরেই।
কমিটি থেকে নাম কাটা গিয়েছে অরুণ জেটলি ঘনিষ্ঠ সুরেশ প্রভুর। বাদ পড়েছেন প্রবীণ নেতা লালকৃষ্ণ আদভানির ঘনিষ্ঠ বর্ষীয়ান নেতা সি পি ঠাকুর, বিজয় গয়ালের মতো প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের। কাটা গিয়েছে আদভানি-ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত দিল্লির প্রাক্তন মেয়র আরতি মেহরার নামও।