সান্তাহার রেল স্টেশনে পাওয়া শিশুটির বাবা-মার সন্ধান মেলেনি ১০ দিনেও

১০ দিন হলো বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহার রেল স্টেশনে পাওয়া শিশুটির অভিভাবকের সন্ধান মেলেনি। ছেলে শিশুটির বয়স পাঁচ মাস। শিশুটিকে রাখা হয়েছে ট্রেনে কাটা লাশ বহনকারী এরশাদ আলী ও তার স্ত্রী সখিনা বিবির কাছে। তারা বলছেন, প্রকৃত বাবা-মায়ের খোঁজ পাওয়া গেলে তাদের কাছে শিশুটিকে হস্তান্তর করা হবে। এদিকে, ছোট্ট শিশু পাওয়ার খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্রাবণী রায় ওই শিশুটিকে দেখভাল করতে সান্তাহার পৌর মেয়রকে দায়িত্ব  দিয়েছেন।  

নওগাঁর আত্রাই উপজেলার আটগ্রামের লছির প্রামাণিকের ছেলে এরশাদ আলী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সান্তাহার মালগুদাম এলাকায় বসবাস করেন। দ্বিতীয় স্ত্রী সখিনাকে নিয়ে  রেলওয়ের জায়গায় একটি কুঁড়ে ঘরে থাকেন।

এরশাদ বলেন, গত (৩০ সেপ্টেম্বর) বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারী শিশুটিকে কোলে নিয়ে ঘুরছিল। কিছুক্ষণ পর প্ল্যাটফরমের উত্তরপাশে সেই শিশুটিকে বৃষ্টি নামের এক কিশোরীর কোলে দেখতে পাই। তখন ওই কিশোরীকে জিজ্ঞাসা করি, ‘শিশুটি তো অন্য এক নারীর কোলে দেখলাম, এখন তোমার কোলে কেন? উত্তরে সে জানাল, ‘আমার কোলে দিয়ে ঐ মহিলা ডাক্তারের কাছে চিকিত্সা নিতে গেছেন। বেশ কিছুক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর ঐ নারীকে পাই। তার কাছে শিশুটির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি শিশুটিকে অস্বীকার করেন। সাফ জানিয়ে দেন শিশুটি তার নয়।’

সান্তাহার রেলওয়ে থানার ওসি শাকিউল আজম জানান, শিশুটিকে পাওয়ার পর থেকে এরশাদের হেফাজতে রাখা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে নজরদারি করা হচ্ছে। এদিকে শিশুটি চুরি করা—এমন সন্দেহে স্থানীয়রা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে এবং ইউএনওকে বিষয়টি জানান। এরপর এরশাদ আলী ও তার স্ত্রী সখিনাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইউএনও অফিসে ডাকা হয়। বৃহস্পতিবার বিকালে এরশাদ দম্পতি শিশুটিকে নিয়ে সেখানে হাজির হন। এরশাদের দাবি, ২২ বছর সংসার জীবনে কোনো সন্তান নেই তাদের। প্রকৃত বাবা-মা খুঁজে বের না হলে তারা এই শিশুটিকে লালন-পালন করতে চায়। এজন্য ইতিমধ্যে শিশুটির নাম রেখেছেন শিহাব হোসেন। ইউএনও শ্রাবণী রায় জানান, পরিবারের সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত ঐ দম্পতির হেফাজতে শিশুটি থাকবে।