এক সপ্তাহেও সচল হয়নি চলন্ত সিঁড়িগুলো, তবে... 

রাজধানীতে পথচারীদের সুবিধার্থে রাজধানীর বনানী, বসুন্ধরা ও এয়ারপোর্টের সামনের ফুটওভার ব্রিজে চলন্ত সিঁড়ি স্থাপন করেছিল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। কিছু দিন না যেতেই সিঁড়িগুলো(এস্কেলেটর) বিকল হয়ে পড়েছে। পথচারীরা বলছেন, এই চলন্ত সিঁড়িগুলোর আরেক নাম এখন ভোগান্তি। 

গত ৬ অক্টোবর ইত্তেফাক অনলাইনে ‘চলন্ত সিঁড়ি: কেউ জানে না কখন চালু, কখন বন্ধ’ এই নিয়ে করে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয় ইত্তেফাক অনলাইনে।  

সরেজমিনে দেখা গেছে, ৯ অক্টোবর সকাল ৮ টায় প্রগতি সরণির বসুন্ধরা গেট সংলগ্ন ফুটওভার ব্রিজের দুটি চলন্ত সিঁড়ির মধ্যে একটি সচল। আরেকটি বিকল হয়ে আছে। চলন্ত সিঁড়িটি বিকল থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছে পথচারীরা। ইত্তেফাক অনলাইনকে কাউসার হামিদ নামে এক পথচারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বসুন্ধরা ফুটওভার ব্রিজে চলন্ত সিঁড়ি স্থাপন হয়েছে কিছুদিন হলো। অথচ সিঁড়িগুলোর প্রবেশ মুখ হয় বন্ধ থাকে; না হয় একটি সচল আরেকটি বিকল থাকে। এতে ভোগান্তিতে পড়তে হয় আমাদের মতো সাধারণ মানুষকে।’

   

চলন্ত সিঁড়ি বন্ধ থাকায় পায়ে হেটে উঠছে মানুষ। ছবি: ইত্তেফাক

 

বনানী সৈনিক ক্লাব ফুটওভার ব্রিজ সকাল ৮ টা ৩০ মিনিটে গিয়ে দেখা গেছে,চলন্ত সিঁড়ির প্রবেশমুখগুলো বন্ধ। চলন্ত সিঁড়ির প্রবেশমুখগুলো বন্ধ থাকায় এখানেও সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। এ সময় কথা হয় উজ্জল হোসেন নামে এক পথচারীর সঙ্গে।  তিনি বলেন, ‘এখানকার চলন্ত সিঁড়ির প্রবেশমুখগুলো অফিস টাইমের আগে সাধারণত খোলে না। আবার রাত ৮/৯ টার সময় বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিছুদিন পর পর চলন্ত সিঁড়িগুলো বিকল হয়ে যায়।’ 

রাজধানী সবচেয়ে ব্যস্ততম এলাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সামনে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ওপর নির্মিত ফুটওভার ব্রিজে দেখা গেছে, একটি চলন্ত সিঁড়ি অকেজো।  বাধ্য হয়ে বয়স্ক নারী, পুরুষ, শিশুসহ সাধারণ মানুষরা খাড়া সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠছে। ফুটওভার ব্রিজের অন্যপাশের চলন্ত সিঁড়িটি প্রায় দুই মাস ধরে বিকল হয়ে আছে।  এই চলন্ত সিঁড়িটি বিকল থাকলেও প্রতিদিন প্রবেশমুখ খুলে দেওয়া হতো। তবে,  ৯ অক্টোবর পুরোদিন বন্ধ থাকতে দেখা গেছে। চলন্ত সিঁড়ি বন্ধ থাকায় রাস্তা পারাপারে বয়স্ক নারী পুরুষ ও বাচ্চাদের সমস্যা হচ্ছে। এসময় পথচারীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। তারা বাধ্য হয়েই বিপরীত পাশের সিঁড়ি ব্যবহার করছেন। অনেকে ঝুঁকি নিয়েই রাস্তা দিয়েই পার হচ্ছেন।

    

ছবি: ইত্তেফাক

আসমা আক্তার নামে এক পথচারী বলেন, ‘ফুটওভার ব্রিজের চলন্ত সিঁড়িগুলো বেশ কিছু দিন ধরে পর অচল হয়ে আছে। চলন্ত সিঁড়ি বন্ধ থাকায় রাস্তা পারাপারে বয়স্ক নারী, পুরুষ ও বাচ্চাদের সমস্যা হচ্ছে। কারণ খাড়া সিঁড়ি বেয়ে ওপরে ওঠা তাদের জন্য খুবেই কষ্টকর। এছাড়া ফুটওভার ব্রিজটি প্রতিদিন ভিক্ষুক ও হকারদের দখলে থাকে। তাই আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা দিয়েই পার হচ্ছি।’

এ অবস্থায় নতুন করে ৮টি পদচারী সেতুতে ১৬টি চলন্ত সিঁড়ি যুক্ত করতে যাচ্ছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও পথচারীদের নিরাপদ রাস্তা পারাপারে ৪৪টি নতুন পদচারী সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শতভাগ সরকারি অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে ডিএনসি।

 ‘ট্রাফিক অবকাঠামো উন্নয়নসহ সড়ক নিরাপত্তা’ শীর্ষক প্রকল্পের মাধ্যমে মোট নতুন ৩৬টি ফুটওভার ব্রিজ ও নতুন ৮টি ব্রিজে ১৬টি চলন্ত সিঁড়ি (এসকেলেটর) যুক্ত করা হবে। এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয় ৩১৯ কোটি ২৩ লাখ সাত হাজার টাকা। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ প্রকল্পের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। ৮টি ফুটওভার ব্রিজে ১৬টি এসকেলেটর স্থাপনে ১৯ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।

যে ৮টি ফুটওভার ব্রিজে ১৬টি এসকেলেটর স্থাপন করা হবে সেগুলো হচ্ছে, কাকলী পথচারী সেতু, শাহীন কলেজ পথচারী সেতু, শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল, আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, সিএমএইচ হাসপাতাল, শ্যামলী ইন্টারসেকশন, মহাখালী (ডিএনসিসির অঞ্চল-৩ এর সামনে) ও প্রগতি সরণি ইস্ট-ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয় পথচারী সেতু।

   

ফুটওভার ব্রিজের চলন্ত সিঁড়িগুলো বন্ধ বা বিকল থাকা ও নতুন করে ৮টি পথচারী সেতুতে ১৬টি চলন্ত সিঁড়ি যুক্ত করার বিষয়ে ডিএনসিসির মেয়র আতিকুল ইসলামের ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

তবে, ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজা ইত্তেফাক অনলাইনকে গত ৪ অক্টোবর বলেছিলেন, ‘বিমানবন্দর এলাকার ওভারব্রিজের চলন্ত সিঁড়িটি গত দেড়মাস ধরে বন্ধ থাকার বিষয়টি আমার জানা নেই। এছাড়া, বনানী ও বসুন্ধরার ফুট ওভারব্রিজের চলন্ত সিঁড়িটি সকাল ৯ টার আগে চালু না হওয়া বিষয়ও আমার জানা নেই। তবে আমি এখনই সংশ্লিষ্টদের জানিয়ে দিচ্ছি, তারা যেন, এসব সমস্যার সমাধান করেন।’ কিন্তু ১০ অক্টোবর সরজমিনে দেখা  গেছে, ডিএনসিসির তৈরি ফুট ওভারব্রিজের চলন্ত সিঁড়িগুলো এখনো সচল করা হয়নি। 

এই বিষয়ে জানতে চাইলে মো. সেলিম রেজা  বলেন, ‘ডিএনসিসির তৈরি ফুট ওভারব্রিজের চলন্ত সিঁড়িগুলো কার তত্ত্বাবধানে রয়েছে এবং চলন্ত সিঁড়িগুলো বন্ধ বা বিকল কেন, সে বিষয়ে খোঁজ  নিচ্ছি।  শিগগিরই এসব সমস্যার সমাধান করা হবে।  আধুনিক নগরী গড়তে ও মানুষের ভোগান্তি কমাতে নতুন করে ৮টি পথচারী সেতুতে ১৬টি চলন্ত সিঁড়ি যুক্ত করা হবে।’ এবার ভালোভাবে রক্ষণাবেক্ষণ হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। 

ইত্তেফাক/এনই/এসএ