ইত্তেফাক রিপোর্ট
বর্তমানে ৩২১টি জাপানিজ কোম্পানি বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম পরিচালিত করছে। চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশে জাপানের বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৩৯ কোটি ৭১ লাখ ডলার (৩ হাজার ৩৭৫ কোটি টাকা)। বাংলাদেশ তৈরি পোশাক খাতের পণ্যই বেশি হারে জাপানে রপ্তানি করে থাকে। জাপানে বাংলাদেশের অন্যান্য পণ্য রপ্তানিতে রাষ্ট্রদূতের সহযোগিতা কামনা করেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (ডিসিসিআই) সভাপতি রিজওয়ান রাহমান। বিশেষ করে মানব সম্পদের দক্ষতা উন্নয়ন, পণ্য উত্পাদন প্রক্রিয়ায় আধুনিক যন্ত্রপাতি ও তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে জাপানকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নায়োকির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এ আহ্বান জানান। গতকাল রবিবার ঢাকা চেম্বারে অনুষ্ঠিত এই সাক্ষাত্কার অনুষ্ঠানে ডিসিসিআই ঊর্ধ্বতন সহসভাপতি এন কে এ মবিন, সহসভাপতি মনোয়ার হোসেন এবং জাপান দূতাবাসের সেকেন্ড সেক্রেটারি শিরাহাতা কাসুমি উপস্থিত ছিলেন। রিজওয়ান রাহমান বলেন, বাংলাদেশের অটোমোটিভ খাত জাপানি বিনিয়োগের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। এখাতে বিনিয়োগে এগিয়ে আসার জন্য জাপানের উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নায়োকি বলেন, করোনা মহামারিতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ইতিবাচক গতিধারা সারা পৃথিবীতে বাংলাদেশের অর্থনীতির শক্তিশালী অবস্থান তুলে ধরেছে এবং করোনা ভ্যাকসিন প্রদানে জাপানের সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস প্রদান করেন। রাষ্ট্রদূত বলেন, আগামী বছরের শেষ নাগাদ ঢাকার অদূরে আড়াইহাজারে ‘জাপান অর্থনৈতিক অঞ্চল’ স্থাপনের কাজ শেষ হলে জাপানি বিনিয়োগ উল্লেখজনক হারে বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি বাংলাদেশের অবকাঠামো খাতের উন্নয়নের চলমান কার্যক্রম সম্পন্ন হলে সার্বিকভাবে বাংলাদেশ বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে সক্ষম হবে। বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ উন্নয়নে তিনি বিশেষ করে কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স, পণ্য আমদানি-রপ্তানি প্রক্রিয়ার সহজীকরণ, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং ইপিজেড ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের কাজ দ্রুততর সময়ে সম্পন্ন করার ওপর জোরারোপ করেন।