নিত্যপ্রয়োজনীয় জ্বালানিপণ্য বোতলজাত গ্যাস বা এলপিজির দাম আরো বাড়ল। গত সেপ্টেম্বরের চেয়ে চলতি অক্টোবরে বেসরকারি পর্যায়ে প্রতি কেজি এলপিজির (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) দাম মূসকসহ ১৮ টাকা ৮৫ পয়সা বাড়িয়ে ১০৪ টাকা ৯২ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত মাসে প্রতি কেজি এলপি গ্যাসের দাম ছিল ৮৬ টাকা ৭ পয়সা। অর্থাত্ দেশে সবচেয়ে বেশি ব্যবহূত ১২ কেজি এলপিজির সিলিন্ডারপ্রতি দাম ২২৬ টাকা বেড়ে ১২৫৯ টাকা নির্ধারণ করেছে এই খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন।
গতকাল রবিবার রাজধানীর কাওরান বাজারে বিইআরসির কার্যালয়ের শুনানিকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে চলতি মাসের জন্য এলপিজির এই নতুন দাম ঘোষণা করেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান মো. আব্দুল জলিল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কমিশনের সদস্য মকবুল-ই-ইলাহি চৌধুরী, মোহাম্মদ আবু ফারুক ও মো. বজলুর রহমান। গত এপ্রিল থেকে প্রতি মাসে এলপিজির দাম সমন্বয় ও পুনর্নির্ধারণ করছে বিইআরসি। আমদানি পণ্য এলপিজির কাঁচামাল বিউটেন ও প্রোপেনের দাম বিশ্ববাজারে বাড়তে থাকায় দেশেও এর দাম বাড়ানো হয়েছে।
রান্নার এলপিজির পাশাপাশি গাড়িতে ব্যবহূত এলপি গ্যাস বা অটোগ্যাসের দাম প্রতি কেজিতে ৮ টাকা ১২ পয়সা বাড়িয়ে ৫৮ টাকা ৬৮ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি গত মাসে ছিল ৫০ টাকা ৫৬ পয়সা। এছাড়া বাসাবাড়িতে কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত (রেটিকুলেটেড) এলপিজির দাম কেজিপ্রতি ১৭ টাকা ৯১ পয়সা বাড়িয়ে ১০১ টাকা ৬৮ পয়সা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে, যা গত মাসে ৮৩ টাকা ৭৭ পয়সা ছিল।
বিইআরসির চেয়ারম্যান বলেন, সৌদি সিপি বা কন্ট্রাক্ট প্রাইস (চুক্তিমূল্য) অনুসারে আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বরে প্রোপেন ও বিউটেনের দাম যথাক্রমে প্রতি টন ৬৬০ মার্কিন ডলার থেকে বেড়ে ৮০০ ও ৬৫৫ থেকে বেড়ে ৭৯৫ মার্কিন ডলার হয়েছে।
বিইআরসির সদস্য (গ্যাস) মকবুল-ই-ইলাহি বলেন, আরো কিছু উদ্যোগ নেওয়া গেলে এলপিজির দাম কমানো সম্ভব। দামের ক্ষেত্রে মূসকও একটা বড় বিষয়। দাম বাস্তবায়ন করতে গেলে ভোক্তাকে এগিয়ে আসতে হবে।