‘হাসুমণির পাঠশালাতে, তোমরা যারা যাও,/ তোমাদের ভাগ্য ভালো।/চেতনার বহ্নিশিখায়/ তোমরা আগুন জ্বালো।’— কবি নির্মলেন্দু গুণের কবিতার পঙিক্ততেই ‘হাসুমণির পাঠশালা’ আর কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ নেই। সেটা এখন বাস্তবে রূপ নিয়েছে। নানা পরিকল্পনা আর পথ-পরিক্রমা পাড় করে এক বছরেই মাথায় নিজ উদ্যোগে গড়ে তুলেছেন ‘হাসুমণির পাঠশালা’। এর পেছনে রয়েছে একজন নিবেদিত প্রাণ। তার নাম মারুফা আক্তার পপি। দেখতে দেখতে এরই মধ্যে পাঠশালার এক বছর পূর্তি হয়েছে। প্রথম বর্ষপূর্তিকে স্মরণ করে রাখতে সম্প্রতি আয়োজন করা হয়েছিল এক ব্যতিক্রমী প্রদর্শনী। আর প্রদর্শনীটি ছিল জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে। যার মধ্য দিয়ে মারুফা আক্তার পপি এই বার্তা দিতে চেয়েছেন যে, চেতনার বহ্নিশিখা সর্বদা জ্বালিয়ে রাখতে প্রয়োজনে ঘরে ঘরে তৈরি হোক একজন করে হাসুমণি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭১তম জন্মবার্ষিকীতে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাতে শেখ হাসিনার ৭১টি প্রতিকৃতি এবং বঙ্গবন্ধু সোনার বাংলাদেশ-বিষয়ক ১০১টি সুচিশিল্প প্রদর্শনী করা হয় ওই অনুষ্ঠানে। হাসুমণির পাঠশালা ও জাতীয় জাদুঘরের উদ্যোগে নলিনীকান্ত ভট্টাশালী প্রদর্শনী গ্যালারিতে এই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। যেখানে ছিল সুচিশিল্পের বিস্ময়কর উপস্থাপন। যেগুলো তৈরি করেছেন জামালপুরের মা-বোনেরা। আর তাদের উত্সাহ যুগিয়েছিলেন হাসুমণির পাঠশালার উদ্যোক্তা-নারী নেত্রী মারুফা আক্তার পপি। প্রদর্শনীর সমাপনী দিনে একান্ত সাক্ষাত্কারে কথা হয় এই পাঠশালার পরিকল্পক ও উদ্যোক্তার সাথে। তার কথায় উঠে এসেছে দেশপ্রেমের সঙ্গে আজকের নারী ও নতুন প্রজন্মের জাগরণের নানা বিষয়। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু ও তার শেখ হাসিনার সোনার বাংলা গড়ার কর্মযজ্ঞে নিজেদের শামিল রাখতেই হাসুমণির পাঠশালার উদ্ভব।
মারুফা আক্তার পপি বলেন, শেখ হাসিনা তার পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করে চলেছেন নানাভাবে, নানা কর্মে। তবে তার একার পক্ষে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। আমরা তার সাথী। স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে আমরাও এগিয়ে এসেছি। স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে সবার আগে প্রয়োজন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ সত্, মেধাবী, শিক্ষিত ও দক্ষ প্রজন্ম এবং যারা নিজেদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করবে। বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও মানবিক দর্শনে অনুপ্রাণিত হয়ে সততা, মেধা, শ্রম ও কর্মদক্ষতায় গড়ে তুলবে নিজেদেরই জন্য বাসযোগ্য সোনার বাংলা। সেই সোনার বাংলা গড়ার কর্মযজ্ঞ শুরু হয়ে গেছে এরই মধ্যে। সেটা করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই কর্মযজ্ঞে পাশে থাকতেই হাসুমণির পাঠশালার উদ্ভব। ‘হাসুমণি’ শব্দটা বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের প্রতীকী শব্দ। বঙ্গবন্ধু শেখ হাসিনাকে আদর করে ‘হাসুমণি’ বলে ডাকতেন। যেমনটি বাংলার ঘরে ঘরে প্রতিটি মা-বাবা তাদের প্রাণপ্রিয় সন্তানকে আদর করে সোনামণি, জাদুমণি বলে ডেকে থাকেন।
সম্প্রতি শেষ হওয়া হাসুমণির পাঠশালার বর্ষপূর্তিতে আয়োজিত চিত্রকর্ম ও সুচিশিল্প প্রদর্শনীতে আশাতীত সাড়া এসেছে। কর্মশালার মধ্য দিয়ে রঙের তুলিতে শেখ হাসিনার ৭১টি প্রতিকৃতি আঁকানো হয়েছিল। যেখানে শেখ হাসিনার নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে। জামালপুরের গ্রামীণ নারীদের সম্পৃক্ত করা হয়েছিল ঐতিহ্যবাহী সুচিশিল্পের মাধ্যমে। যারা কি না ১০১টি সুচিশিল্প কর্ম রচনা করেছিলেন।
হাসুমণির পাঠশালার ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা সম্পর্কে পপি বলেন, মূল উদ্দেশ্য- দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে নতুন প্রজন্মের কাছে নতুনভাবে উপস্থাপন করা। তারা যেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বেড়ে ওঠে। সুখী ও সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ে তুলতে এই চেতনাটাই এখন সবচেয়ে বেশি জরুরি। আর যা হোক, মূল্যবোধ আর চেতনাকে বিসর্জন দিয়ে মানবিকসম্পন্ন সমাজ গড়ে উঠতে পারে না। প্রত্যাশা থাকবে, সবার মধ্যে মূল্যবোধ জাগ্রত হবে সব সময়। মানবিক মূল্যবোধ আর মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ওপর যেন কোনো অশুভ শক্তির কালো ছায়া না পড়ে, সে জন্য হাসুমণির পাঠশালা সর্বদা তার আলোর মশাল জ্বালিয়ে রাখবে। আর এটাই আমাদের লক্ষ্য ও গন্তব্য।