এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন দাম সমন্বয়ের নামে গত চার মাসে সাত দফায় কমিয়ে-বাড়িয়ে এলপি গ্যাসের দাম নির্ধারণ করেছে। এর মধ্যে চার দফায় শুধু দাম বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া তিন দফায় কমানোর কথা বলা হলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন ছিল না। ফলে জ্বালানি খাতে খরচ মেটাতে গিয়ে নাভিশ্বাস উঠেছে মধ্যবিত্ত মানুষের। এতে করে খুলনার গ্রাহকরা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চলতি বছরের ১২ এপ্রিল এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন ৯৭৫ টাকা এলপি গ্যাসের মূল্য নির্ধারণ করে। এরপর মে মাসে গ্যাসের দাম কমিয়ে ১২ কেজির সিলিন্ডার ৯০৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়। পরবর্তী সময়ে জুন মাসে ৮৪২ টাকায় নির্ধারণ করা হয়। এরপর ৩০ জুন ৮৪২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮৯১ টাকা, আগস্ট মাসে ৯৯৩ টাকা এবং সেপ্টেম্বর মাসের প্রথমদিকে ১ হাজার ৩৩ টাকা দর নির্ধারণ করলেও নির্ধারিত এ মূল্যেও গ্যাস কোথাও বিক্রি হয়নি। তখন ১২০০ টাকা থেকে সাড়ে ১২০০ টাকায় গ্যাস কিনতে হয়েছে ব্যবহারকারীদের। এরপর সর্বশেষ গত ১০ অক্টোবর কমিশন ১ হাজার ২৫৯ টাকা নির্ধারণ করেছে। যদিও সরকারি সাড়ে ১২ কেজির এলপিজির দর ৫৯১ টাকা রয়েছে।
নগরীর শান্তিধাম মোড়ের বাসিন্দা গ্রাহক বিপ্লব কুমার সাহা খুলনার একটি সরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা। সারা মাসে তিনি যা বেতন পান তা ছেলেমেয়ের লেখাপড়ার পাশাপাশি সংসার চালাতে গিয়ে হিমশিম খান।
তিনি বলেন, ‘রেগুলেটরি কমিশন গত চার মাসে এলপিজি গ্যাসের যে দাম নির্ধারণ করেছে সে দামে কোথাও বিক্রি হয়নি। তার থেকে ১০০ টাকা বেশি দরে দোকানদাররা বিক্রি করেছেন। এগুলো দেখার কেউ নেই।’ নগরীর তালতলা এলাকার গৃহবধূ সাবিনা আক্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গ্যাসের দাম যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে গ্যাস ব্যবহার ছেড়ে দিতে হবে। এদেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম একবার বেড়ে গেলে আর সহজে কমতে চায় না। গত চার মাসে গ্যাসের দাম পর্যায়ক্রমে ৪০০ টাকার বেশি বেড়েছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের আয় কি বেড়েছে?
এদিকে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের বেঁধে দেওয়া দরে গ্যাস বিক্রির বিষয়ে নগরীর পশ্চিম বানিয়াখামারের ব্যবসায়ী জিয়াউস সাদাত বলেন, কমিশনের রেটের ওপর তাদের গ্যাস বিক্রি করা সম্ভব নয়। কারণ তারা কোম্পানির কাছ থেকে গ্যাস নেন। কোম্পানির নির্ধারিত দরের ওপর লাভ রেখে তাকে খুচরায় গ্যাস বিক্রি করতে হবে।
দোলখোলা ইসলামপুর জামে মসজিদ মোড়ের আনিস গ্যাস হাউজের মালিক মো. আনিস বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের দাম বাড়লে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন তা কমাতে পারবে না।