কর্ণফুলী নদী তীরের অবৈধ স্থাপনাসমূহ উচ্ছেদে আবারও উচ্চ আদালতে যাচ্ছে নদী ও খাল রক্ষা আন্দোলন নামের সংগঠনটি। গতকাল সোমবার সকালে চাক্তাই খালের মোহনার কর্ণফুলীর তীরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ একথা জানান।
সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ বলেন, বারবার তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও কর্ণফুলীর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ না করায় আগামী ১৫ দিনের মধ্যে হাইকোর্টের আদেশ অবমাননার অভিযোগ এনে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার চাইবে চট্টগ্রাম নদী ও খাল রক্ষা আন্দোলন। সংগঠনের সভাপতি চৌধুরী ফরিদের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন অধ্যাপক মনোজ কুমার দেব। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, মাছের বাজার ও ভেড়া মার্কেট উচ্ছেদ করার বিষয়ে হাইকোর্টের আদেশের ৪ নম্বর কলামে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু বন্দর কর্তৃপক্ষ নতুন মাছের বাজার চলমান রেখেছে। ১৫ বছরের চুক্তিনামা দিয়ে কর্ণফুলী নদী দখল ও ভরাট করে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করেছে। ২০১৯ সালের আদেশের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন মাছের বাজার উচ্ছেদ করা বাধ্যতামূলক ছিল। কিন্তু বন্দর কর্তৃপক্ষ মাছের বাজার উচ্ছেদ না করে নতুন করে বরফকল স্থাপনের জন্য কর্ণফুলী নদীর মধ্যখানে শাহ আমানত ব্রিজের মাধ্য পিলার বরাবর ২০০০ স্কয়ার ফিট নদী নতুন করে লিজ দিয়েছে। যা সরাসরি হাইকোর্টের আদেশের লঙ্ঘন। অপরদিকে, ফিরিঙ্গিবাজার মোড় থেকে মেরিনার্স পার্ক নতুন মাছের বাজার, ভেড়া মার্কেট থেকে বাকলিয়া চরের মোড় পর্যন্ত ৪৭ ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানের দখলে থাকা সহস্রাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে ২০২০ সালের ২০ ডিসেম্বর উচ্ছেদ নোটিশ দিয়েছিল চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। ঐ নোটিশ দেওয়ার পর এক বছর ১০ মাস অতিবাহিত হলেও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করছে না জেলা প্রশাসন। এটিও হাইকোর্টের আদেশের লঙ্ঘন। লিখিত বক্তব্যে আদালতের আদেশ লঙ্ঘিত হওয়ার আরো কয়েকটি উদাহরণ তুলে ধরা হয়।