আফগানিস্তানে মানবিক ত্রাণ দিতে রাজি হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দুই কাতারের দোহায় এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। আগস্ট মাসে মার্কিন সৈন্যরা আফগানিস্তান ত্যাগ করার পর রবিবার কাতারে এই প্রথমবারের মতো দুই পক্ষের যে সরাসরি বৈঠক হয়, তা শেষ হবার পর এক বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়। খবর বিবিসির
ত্রাণ ছাড়াও এই আলোচনায় নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবাদ সংক্রান্ত উদ্বেগ, চরমপন্থি গোষ্ঠীগুলোকে নিয়ন্ত্রণে আনা এবং মার্কিন নাগরিকসহ বিদেশিদের আফগানিস্তান থেকে বের করে নিয়ে যাওয়া প্রসঙ্গেও কথা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, মানবিক সহায়তা যাদের প্রাপ্য তাদের কাছে স্বচ্ছতার সঙ্গে পৌঁছে দেওয়ার কাজে দাতব্য সংগঠনগুলোর সঙ্গে তালেবান সহযোগিতা করবে। এছাড়াও তারা বিদেশি নাগরিকদের চলাচলের সুবিধা নিশ্চিত করবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এখনো ত্রাণের ওপর তালেবানের কর্তৃত্বকে নিশ্চিত করেনি।
মার্কিন কর্মকর্তারা এই আলোচনাকে খোলামেলা এবং পেশাদারিত্বসম্পন্ন বলে বর্ণনা করেছেন, তবে তারা এর সঙ্গে যোগ করেন যে তালেবানকে তাদের কর্মকাণ্ডের ভিত্তিতেই মূল্যায়ন করা হবে। যুক্তরাষ্ট্র জোর দিয়ে বলেছে যে এই বৈঠকের অর্থ তালেবানকে স্বীকৃতি দেওয়া নয়। মার্কিন মুখপাত্র নেড প্রাইস বলেছেন, আফগান জনগণের কাছে সরাসরি জোরদার মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। এমন এক সময় যুক্তরাষ্ট্র ও আফগানিস্তানের মধ্যে এ আলোচনা হলো যখন আফগানিস্তান এক গুরুতর মানবিক সংকটের সম্মুখীন বলে ত্রাণকর্মীরা মনে করছেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের নাগরিকদের
চলাফেরায় সতর্কবার্তা
এদিকে আফগানিস্তানে থাকা নিজ দেশের নাগরিকদের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। সে দেশে অবস্থানরত নাগরিকদের রাজধানী কাবুলের বিভিন্ন হোটেলে যেতে নিষেধ করেছে দেশ দুটি। গতকাল সোমবার এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।
আইএস ঠেকাতে সহায়তার
দরকার নেই তালেবানের
আফগানিস্তানে এখন প্রায়ই ইসলামিক স্টেট অব খোরাসান বা আইএস-কে’র যে তত্পরতা দেখা যাচ্ছে। তা মোকাবিলার জন্য ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো সহযোগিতার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছে তালেবান। কাতারে তালেবানের মুখপাত্র সুহায়েল শাহীন বার্তা সংস্থা এপিকে বলেছেন, তারা নিজেরাই আইএস-কে’র হুমকি মোকাবিলা করতে সক্ষম।