ফুলবাড়ীতে খেজুরগাছ প্রস্তুতে ব্যস্ত গাছিরা

অনিল চন্দ্র রায়, ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা

আশ্বিনের শেষ দিক। কয়েক দিন পর আসছে হেমন্ত। সেই সঙ্গে কুয়াশা আর ভোরে লতা-পাতা, ঘাস ও আমন ধানের ডগায় শিশির বিন্দু জমছে। শীত শুরু না হতেই গাছিরা খেজুর গাছ থেকে রস আহরণের আগাম প্রস্তুতি হিসেবে গাছগুলো প্রস্তুত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ইতিমধ্যে সব ধরনের উপকরণও সংগ্রহ করেছেন গাছিরা।

উপজেলার ভাঙ্গামোড় ইউনিয়নের উত্তর রাবাইটারী এলাকায় দুই ভাই ১০ থেকে ১৫ দিন থেকে খেজুর গাছের রস সংগ্রহের জন্য আগাম প্রস্তুতি হিসেবে গাছগুলো বাছার কাজ করছেন। বড় ভাই শুক্কুর আলী (৪৫) ও ছোট ভাই সমেজ আলী (৪০)। শুক্কুর আলী বছরে এ অঞ্চলে চার মাস কাটান। গাছি শুক্কুর আলী (৪৫) জানান, ৩০ বছর ধরে ফুলবাড়ী এলাকায় খেজুর গাছ কন্ট্রাক নিয়ে রস সংগ্রহ করে গুড় তৈরি করি। এ বছর ছোট ভাইকে নিয়ে এসেছি। এ বছর ১৩০টি খেজুর গাছের রস সংগ্রহ করব। আশ্বিন মাসের প্রথম সপ্তাহে খেজুর গাছ বাছা শুরু করেছি। সব কিছু ঠিক থাকলে কার্তিক মাসের ১৫ থেকে ২০ তারিখের মধ্যেই রস সংগ্রহ করা শুরু করতে পারবেন বলে তিনি জানান।

উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের কুরুষাফেরুষা গ্রামের গাছি আমিনুল ইসলাম ও রেজাউল ইসলাম বলেন, এ বছর তারা প্রত্যেকেই ৩০ থেকে ৪০টি খেজুরগাছ কন্ট্রাক নিয়েছেন। কৃষকরা পতিত জমির আইল, সড়ক ও পুকুরের ধারে বাণিজ্যিকভাবে খেজুর গাছ লাগান। উপজেলা ভারপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা আসফিয়া শারমিন জানান, এ উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে প্রায় ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার খেজুরগাছ আছে। তবে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে খেজুরবাগান গড়ে তোলা হলে কৃষকরা লাভবান হবেন। কারণ খেজুরগাছের জন্য বাড়তি কোনো পরিচর্যার প্রয়োজন হয় না।