ছিঁচকে চোর থেকে ছাত্রদলে, মাদক কারবারি হয়ে শ্রমিক লীগে

একসময়ের ছিঁচকে চোর থেকে তেজগাঁও থানা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক। ক্ষমতার পালা বদলে তিনি হয়ে যান শ্রমিক লীগের নেতা। শ্রমিক লীগের নাম ভাঙিয়ে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা এলাকায় ইয়াবা ব্যবসার নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন। তেজগাঁও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়, নাখালপাড়া এবং বেগুনবাড়ী এলাকার ফুটপাতের ভাসমান দোকানের চাঁদাবাজিও নিয়ন্ত্রণ করেন তিনি। তার নাম মামুন মিয়া। বর্তমানে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকার ২৪ নম্বর ওয়ার্ড শ্রমিক লীগের প্রস্তাবিত কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে মামুন মিয়ার নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। এ নিয়ে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নেতাকর্মীদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে কমিটি অনুমোদন না পেলেও নিজের ছবিসংবলিত পোস্টার ব্যানার দিয়ে ছেয়ে দিয়েছেন পুরো এলাকা। তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা আওয়ামী লীগ নেতাদের ছবি ব্যবহার করে নিজের পোস্টার ও ব্যানার তৈরি করায় বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ।

এ ব্যাপারে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা এলাকার ডিএনসির ২৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শফিউল্লাহ শফি বলেন, মামুন ছাত্রদলের নেতা হয়েও চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসা অব্যাহত রাখতে শ্রমিক লীগের নাম ভাঙিয়ে দলের নেতাকর্মীদের ভয় দেখাচ্ছে। তার বিরুদ্ধে পুলিশ ও র্যাবে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। এর আগে ইয়াবা ব্যবসার প্রতিবাদ করায় মামুন মিয়া আওয়ামী লীগের বেশ কয়েক জন নেতাকর্মীর ওপর হামলা চালায়। তার বিরুদ্ধে তেজগাঁও, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল ও রেলওয়ে থানায় সাত/আটটি মামলা রয়েছে। আমরা তাকে দল থেকে বহিষ্কারের প্রস্তাব করেছি।

স্থানীয় ২৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হাজি আবুল কালাম জানান, মামুনের মাদক কারবারের প্রতিবাদ করায় গত বছরের ৫ ডিসেম্বর রাতে সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। এ ঘটনার কয়েক দিন পর একই কারণে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা বেল্লাল হোসেনকে কুপিয়ে আহত করা হয়।

শিল্পাঞ্চল থানা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বাবু বলেন, ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মাদককারবারি মামুনের মতো ক্রিমিনাল দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে আবার বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে স্লোগান দেবে, তা আমরা চাই না। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সুদৃষ্টি কামনা করছি।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) ওয়াহিদুর রহমান বলেন, মাদক কারবারি যে-ই হোক তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। মাদককারবারির বিষয়ে আমরা জিরো টলারেন্স। তাদের ন্যূনতম ছাড়ও দেওয়া হবে না।

এ ব্যাপারে মামুন মিয়া বলেন, আমি অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলি তাই আমার নামে মাদক ব্যবসা, ছিনতাই-চুরির অভিযোগ করা হয়েছে। মূলত যারা ঐসব অপরাধ করে থাকে তারাই এমন অভিযোগ করেছে। মাদক ব্যবসার সঙ্গে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।