মিঠাপুকুরে ভিজিডি কর্মসূচীর আওতায় (দুঃস্থমাতা) সুবিধাভোগীদের জমানো সাড়ে ৮ লাখ টাকা নিয়ে পালানোর সময় এক এনজিও কর্মকর্তাসহ ৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার ব্যাংক থেকে উত্তোলনের পর টাকা নিয়ে পালানোর সময় তাদের আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলো, এনজিও ‘সুশীলন’ এর ম্যানেজার নব গোপাল রায় (৪০), ইউনিয়ন প্রশিক্ষক নন্দেশ্বর রায় (২৫) ও কমল কুমার রায় (৩০)।
মিঠাপুকুর উপজেলা মহিলা বিষয়ক অফিসার মল্লিকা পারভীন বলেন, উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নে সরকারের নিরাপত্তাবেষ্টনী দুঃস্থমাতা কর্মসূচীর আওতায় (ভিজিডি) ২ বছর মেয়াদে সুবিধাভোগী সদস্য প্রায় ৩ হাজার দুঃস্থ নারী। এর মধ্যে ১৫ ইউনিয়নের মোট দুই হাজার ছয় শত পঞ্চাশ জনের প্রশিক্ষণ ও তাদের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিল বেসরকারী সংস্থা ‘সুশীলন’।
তারা প্রত্যেক সুবিধাভোগীর কাছে মাসে সঞ্চয় হিসেবে দুই শত টাকা করে জমা নিয়েছিল। গত ডিসেম্বরে কর্মসূচীর সুবিধাভোগীদের বরাদ্দ শেষ হয়। ২ বছরে তাদের প্রায় ৭০ লাখ টাকা জমা হয়। সবার সঞ্চয়ের টাকা ফেরত দেয় এনজিও কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে দূর্গাপুর ইউনিয়নে ৩শ ১৯ জনের সঞ্চয় জমা হয় ১৩ লাখ ৬৭ হাজার ৬৮৬ টাকা।
৫ লাখ টাকা বিতরণের পর অবশিষ্ট সাড়ে ৮ লাখ টাকা নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে এনজিওটির কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। বিষয়টি জানতে পেরে সুবিধাভোগী সদস্যরা ৩ জনকে আটক করে পুলিশে দেয়।
আটক ব্যবস্থাপক নব গোপাল রায় নীলফামারীর কিশোরীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা, ইউনিয়ন প্রশিক্ষক নন্দেশশ্বর রায় জলঢাকা উপজেলার খেলাবর গ্রামের মৃত. সুদীর চন্দ্রের ছেলে এবং কর্মচারী কমল রায় গাবরুল মাঝপাড়া গ্রামের পুলিন চন্দ্রের ছেলে।
আরও পড়ুনঃ ইসলামপুর বাজারে তুলার গুদামঘরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মামুন অর-রশীদ ইত্তেফাককে বলেন, ‘দুঃস্থ নারীদের সঞ্চয়ের টাকা ফেরত না দিয়ে আত্মসাতের ঘটনা কোনভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। অভিযুক্ত এনজিওর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হবে। আর আটক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আইনের আওতায় বিচারের ব্যবস্থা করা হবে।’
ইত্তেফাক/নূহু