সঠিকভাবে হাত ধুয়ে ৮০ শতাংশ রোগ প্রতিরোধ সম্ভব

গবেষণায় দেখা গেছে, পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশুদের ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ার প্রবণতা কমাতে পানি ও সাবান দিয়ে হাত ধোয়া একটি ব্যয়-সাশ্রয়ী উদ্যোগ। কিছু নির্দিষ্ট সময়, বিশেষ করে খাবার খাওয়ার আগে ও খাবার তৈরির আগে এবং টয়লেট ব্যবহারের পরে সাবান দিয়ে দুই হাত ধোয়ার মাধ্যমে ডায়রিয়ার হার প্রায় ৪০ শতাংশের বেশি ও শ্বাসযন্ত্রের তীব্র সংক্রমণ প্রায় ২৩ শতাংশ কমানো সম্ভব। তাই সুস্বাস্থ্য ও উন্নয়নের লক্ষ্যে জনসাধারণের মধ্যে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার গুরুত্ব তুলে ধরা ও প্রচারের উদ্দেশ্যে সারা বিশ্বে একযোগে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালন করা হয়। ২০০৮ সাল থেকে প্রতি বছর ১৫ অক্টোবর দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘আগামীর সূচনা আমাদের হাতে, চলুন এক সঙ্গে এগিয়ে যাই।’

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাত ধোয়া কর্মসূচি নতুন কিছু নয়। ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৮০০ সালে। ভিয়েনার একটি হাসপাতালে কাজ করতেন বিশিষ্ট চিকিত্সক ইগনাল সেমেলউইজ। এ হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগে মাতৃমৃত্যুর হার হঠাত্ বেড়ে যায়। আতঙ্কিত রোগীরা হাসপাতাল ছেড়ে চলে যেতে থাকেন। ডা. সেমেলউইজ এর কারণ খুঁজতে লাগলেন। তিনি অনুসন্ধান করে দেখলেন, নবীন চিকিত্সকরা অ্যানাটমি ক্লাসে মৃতদেহ ব্যবচ্ছেদ করে হাত ভালোভাবে না   ধুয়েই প্রসূতি ওয়ার্ডে রোগীদের চিকিত্সা করছেন। তিনি মতামত দিলেন যে, এভাবে অপরিষ্কার হাত দিয়ে রোগীদের সংস্পর্শে আসায় সংক্রমণ বাড়ছে। বাড়ছে মৃত্যুর হার। তিনি উদ্যোগ নিয়ে হাত ধোয়া কর্মসূচি শুরু করেন। ফলে জীবাণু সংক্রমণ কমে যায় এবং মৃত্যুর হার পাঁচ গুণ কমে আসে।

বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ বলেছেন, সঠিকভাবে বাত ধুলে ৮০ শতাংশ রোগ প্রতিরোধ করা যায়। অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় নাকে-মুখে হাত দেওয়া বা হাত ভালোভাবে না ধুয়ে খাবার খেলে বিভিন্ন ধরনের ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ও অন্যান্য জীবাণু শরীরে প্রবেশ করে। ফলে সাধারণ ঠান্ডা বা                   ফ্লু থেকে শুরু করে ডায়রিয়া, জন্ডিস,                আমাশয়, টাইফয়েডসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়। অনেকেই আবার হাঁচি, কাশি অপরিষ্কার জামা বা রুমালে মোছেন। এসবের মাধ্যমে এমনকি করমর্দনের মাধ্যমেও রোগ ছড়াতে পারে।