রাঙ্গামাটিতে গুর্খা সম্প্রদায়ের ‘টিকা লাগাউনে’ উত্সব

রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি

শারদীয় দুর্গাপূজা বিজয়া দশমী উপলক্ষ্যে রাঙ্গামাটিতে বসবাসরত গুর্খা সম্প্রদায়ের ‘টিকা লাগাউনে’ (বড়রা ছোটোদেরকে আশীর্বাদ দেওয়া) উত্সব অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সকালে শহরের বিভিন্ন মন্দিরের মণ্ডপে দশমীর অঞ্জলি প্রদান শেষে গুর্খা সম্প্রদায়ের বাড়িতে বাড়িতে এই উত্সব চলে। আর এরই ধারাবাহিকতায় রাঙ্গামাটির জেল রোডস্থ সুর নিকেতন সংগীত শিক্ষালয় ভবনে সুর নিকেতনের প্রতিষ্ঠাতা মনোজ বাহাদুর গুর্খা ও সহধর্মিণী লক্সমি মানজি গুর্খার আয়োজনে মোমবাতি প্রজ্বলনের মাধ্যমে টিকা লাগাউনে (বড়রা ছোটোদেরকে আশীর্বাদ দেওয়া) উত্সব পালন করা হয়।

এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, রাঙ্গামাটি প্রেসক্লাবের সভাপতি সাখাওয়াত্ হোসেন রুবেল, গুর্খা সম্প্রদায়ের বয়োজ্যেষ্ঠ নেতা রাম বাহাদুর রায়, বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি দীপেন কুমার ঘোষ, কাউখালী সরকারি কলেজের অধ্যাপক রিপন ঘোষ, নারীনেত্রী শিলা রায়, সাংবাদিক মিল্টন বাহাদুর, বিগ এইচ প্রোডাকশনের স্বত্বাধিকারী ও বিশিষ্ট সংগীত শিল্পী হিমাদ্রী গুর্খা মিতুলসহ গুর্খা সম্প্রদায়ের অন্য নেতৃবৃন্দ ও সুর নিকেতন সংগীত শিক্ষালয়ের ছাত্রছাত্রীরা। এ সময় সুর নিকেতন সংগীত শিক্ষালয় ভবনে সুর নিকেতনের প্রতিষ্ঠাতা মনোজ বাহাদুর বলেন, আদিকাল থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত নেপালী বংশোদ্ভূত গুর্খা সম্প্রদায়ের মানুষ শারদীয় দুর্গা উত্সবের দশমীর দিনে এই টিকা লাগাউনে উত্সব পালন করে আসছে। এই উত্সবের মাধ্যমে সম্প্রীতি-ভ্রাতৃত্ববোধ ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

রাঙ্গামাটি প্রেসক্লাবের সভাপতি সাখাওয়াত্ হোসেন রুবেল বলেন, পাহাড়ে গুর্খা সম্প্রদায়ের কৃষ্টি, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ধরে রাখতে হলে ভ্রাতৃত্ববন্ধনে আবদ্ধ হয়ে নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে চলার পথ দেখাতে হবে। যাতে করে এই নতুন প্রজন্ম গুর্খা সম্প্রদায়ের বিভিন্ন উত্সব ও আচার-অনুষ্ঠান যথাযথভাবে উত্সবমুখর পরিবেশে পালন করতে পারে। একে অন্যের ভ্রাতৃত্ববোধ যাতে সুদৃঢ় হয়ে ওঠে তার জন্য উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন।