সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া
জ্ঞান হওয়ার পর থেকেই বাবাকে দেখেছেন শিক্ষকতা করতে। আরেকটু বড় হয়ে বোনকেও দেখলেন একই পেশায়। এভাবে ছোট বেলা থেকেই নুসরাতের মনের মধ্যে একটা ইচ্ছে গেঁথে গেল- বড় হয়ে নিজেও শিক্ষক হবেন। অবশেষে সেই স্বপ্নকে সত্যি করেও দেখালেন।
নুসরাত শারমিনের জন্ম ঢাকার মিরপুরে। প্রকৌশলী বাবা এস এম. দেলোয়ার হোসেন আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের ইঞ্জিনিয়ারিং ড্রয়িং সার্ভে বিষয়ে প্রভাষক (বর্তমানে অধ্যাপক) হওয়ার সুবাদে কলেজ কোয়ার্টারেই বেড়ে ওঠা। দুষ্টুমি আর আড্ডায় পটু হলেও নুসরাত শৈশব থেকেই ছিলেন ভালো ছাত্রী।
এসএসসি শহীদ বীর উত্তম লে.আনোয়ার গার্লস কলেজ এবং এইচএসসি করেছেন আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ! এখানেও শুধু পরীক্ষার আগে আগেই কয়েকটা দিন পড়তে বসতেন তিনি। বেশ গুছিয়ে পড়াশোনা এবং অন্যান্য কাজ করার অভ্যাসের কারণে মেধাবী নুসরাত তুলনামূলক অল্প চেষ্টাতেই স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর দুই ফাইনাল পরীক্ষাতেই প্রথম শ্রেণিতে চতুর্থ স্থান অর্জন করতে সক্ষম হন। স্নাতকের ভালো ফলের জন্য বিভাগ থেকে পান সীতারা পারভীন স্মৃতিপদক।
স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নুসরাত শারমিন স্টুডেন্ট এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে ২০১০ সালে রাষ্ট্রীয়ভাবে পাকিস্তান সফরের সুযোগ পেয়েছিলেন। শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট থেকে ইংরেজি বিষয়ে প্রথম বিভাগ নিয়ে কোর্স সম্পন্ন করেন। এছাড়া বিভাগের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও বেশ কয়েকবার যোগ দিয়ে নাচ, অভিনয় এবং উপস্থিত বক্তৃতায় কৃতিত্ব দেখিয়েছেন বিভাগের ‘ভালোছাত্রী’ হিসেবে খ্যাত নুসরাত।
স্নাতকোত্তর পর্যায়ের পড়ালেখা শেষ করার পর ফলাফল দেওয়ার আগ পর্যন্ত নুসরাত চেয়েছিলেন একটু অবসর সময় কাটাতে। অনেকতো পড়ালেখা হলো, ব্যস্ত সময় কাটানো হলো। এবার একটু বিরতি নেওয়া যাক। কিন্তু সে সুযোগ আর পাননি তিনি। মাস্টার্সের রেজাল্ট দেওয়ার আগেই, অর্থাত্ পরীক্ষা শেষ হওয়ার দেড় মাসের মাথায়ই চাকরি নামক সোনার হরিণ যেন নিজেই এসে ধরা দিলো তার হাতে! হুট করে পাওয়া চাকরির সুযোগের খবর থেকে সিভি জমা দেওয়া, আর এরপর লিখিত পরীক্ষাসহ কঠিন নিয়োগ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের প্রথম ডিজিটাল স্যাটেলাইট চ্যানেল চ্যানেলআইয়ের অনলাইন ওয়েবপোর্টালে নুসরাতের চাকরি হয়ে গেল। কখনো ভাবেননি গণমাধ্যমে কাজ করবেন। মন পড়েছিল ছোট বেলার স্বপ্ন সেই শিক্ষকতার দিকেই। তবুও প্রথম চাকরি বলে কথা! তাই প্রায় এক বছর নিষ্ঠার সঙ্গে সেখানে দায়িত্ব পালন করেন নুসরাত।
তত দিনে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে পড়াশোনার কারণে শিক্ষকতার পাশাপাশি যোগাযোগ বিষয়ে কাজ করার প্রতিও আগ্রহ জন্মে গেছে। আর এই আগ্রহের পথ ধরেই চ্যানেলআইয়ে সাংবাদিকতার পেশা ছেড়ে যোগ দিলেন পরিবেশ নিয়ে কাজ করা এনজিও প্রতিষ্ঠান ইনভায়রনমেন্ট এন্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (এসডো)-তে কমিউনিকেশন অফিসার হিসেবে। সেখানে ইকো ভিলেজ,কমিউনিটি বেসড ইকো টুরিজম,প্লাস্টিক ফ্রি ওয়ার্লডসহ বেশ কিছু প্রকল্পে সফলতার সাথে কাজ করেছেন তিনি।
তবে ধারাবাহিক চেষ্টায় অবশেষে নিজের পুরনো স্বপ্নকে সত্যি করতে সফল হয়ে নুসরাত এখন ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভস (ইউডা)-র কমিউনিকেশন এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষক। আর এই পুরো পথে নুসরাতের পাশে ছিলেন তার পুরো পরিবার। বিশেষ করে মা ডালিয়া পারভীন এবং স্বামী মো. নূর হোসেনের আনন্দ এর অনুপ্রেরণা নুসরাতের শিক্ষা জীবনের ধারাবাহিক সাফল্যের কারণ।