নিয়োগ বোর্ডে বাদ পড়েও হলেন শিক্ষক, আছে আরো অনিয়মের অভিযোগ

বশেমুরবিপ্রবির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ

মো. রায়হানুল ইসলাম সৈকত, বশেমুরবিপ্রবি সংবাদদাতা

গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বশেমুরবিপ্রবি) রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ বোর্ডে বাদ পড়া প্রার্থীকে স্থানান্তরের মাধ্যমে বিভাগটিতে নিয়োগ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এছাড়া রিজেন্ট বোর্ড ও অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলে সদস্য নিয়োগ এবং মুজিববর্ষের স্পেশাল ডায়ারি তৈরিতে অনিয়মসহ বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের বর্তমান সভাপতি সহকারী অধ্যাপক ড. হাসিবুর রহমান ২০১৭ সালের ৪ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু ইনস্টিটিউট অব লিবারেশন ওয়ার অ্যান্ড বাংলাদেশ স্টাডিজের (বিলওয়াবস) শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। ২০১৮ সালের ২২ এপ্রিলে নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে তিন জন শিক্ষক যোগদান করেন। এ সময় ড. হাসিবুর রহমানও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করেন এবং শিক্ষক হতে ব্যর্থ হন। পরে ২০২০ সালের ১৩ অক্টোবর কোনো নিয়োগ প্রক্রিয়া ছাড়াই এক চিঠির মাধ্যমে ইনস্টিটিউট থেকে সরাসরি রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক হিসেবে তাকে স্থানান্তর করা হয়। একই প্রক্রিয়ায় সহকারী অধ্যাপক ড. আবু সালেহকেও এ বছরের ৬ সেপ্টেম্বরে ইনস্টিটিউট থেকে স্থানান্তর করে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক করা হয়। আয়োজিত নিয়োগ বোর্ডে ড. আবু সালেহও প্রার্থী হিসেবে আবেদন করেছিলেন। তবে তিনিও সে বোর্ডে নিয়োগ পাননি।

এদিকে ২০১৭ সালে বিলওয়াবস ইনস্টিটিউটে যোগদান করলেও ঐ তারিখে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে যোগদান দেখিয়ে নিজেকে এবং পরে যোগ হওয়া ড. আবু সালেহকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে তথ্য হালনাগাদের জন্য গত ৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে চিঠি দেন ড. হাসিবুর রহমান। এ বিষয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ এবং বিভাগে চাকরির সময়কাল গণনা নিয়ে ধূম্রজাল তৈরি হয়েছে বলে রেজিস্ট্রারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন বিভাগটির কয়েক জন শিক্ষক।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষক বলেন, ইনস্টিটিউট এবং অনুষদ সম্পূর্ণ আলাদা নিয়মে পরিচালিত হয়। এ অবস্থায় একটি ইনস্টিটিউট থেকে দুই জন শিক্ষককে নিয়োগ প্রক্রিয়া ছাড়া রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে স্থানান্তর করা হয়েছে। এদের মধ্যে এক জন পূর্বে বাদ পড়া প্রার্থীও আছেন। তাছাড়া বিভাগে তাদের আগে তিন জন শিক্ষক যোগদান করলেও ড. হাসিবুর রহমান এবং ড. আবু সালেহকে জ্যেষ্ঠ হিসেবে দাবি করা হয়েছে। এসব বিষয়ে জানার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

এদিকে অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের আপত্তি সত্ত্বেও ড. হাসিবুর রহমানকে রিজেন্ট বোর্ডের সদস্য করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, বশেমুরবিপ্রবির আইন অমান্য করে দুই জন সদস্যকে অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য করা হয়েছে। এদিকে মুজিববর্ষের স্পেশাল ডায়ারি তৈরিতে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে ড. হাসিবুর রহমানের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ও অশালীন মন্তব্যের অভিযোগ উঠেছে ড. হাসিবুর রহমানের বিরুদ্ধে।

এ সব অভিযোগ অস্বীকার করে ড. হাসিবুর রহমান বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ করা হয়েছে তা ভিত্তিহীন। এ সময় তিনি ইনস্টিটিউট থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে স্থানান্তরের বিষয়ে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিধি অনুযায়ী আমাকে স্থানান্তর করেছে। সেটি রিজেন্ট বোর্ডে পাশও হয়েছে। আর বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগের তারিখ অনুযায়ী জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ করা হয়েছে। এখানে কোনো অনিয়ম করা হয়নি। মুজিববর্ষের স্পেশাল ডায়ারির ক্ষেত্রেও অনিয়ম করা হয়নি। ইনস্টিটিউট থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক হওয়ার বিষয়ে ড. আবু সালেহ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ উপযুক্ত মনে করেছে তাই আমাকে স্থানান্তর করা হয়েছে।

এ সব বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কিউ এম মাহবুব বলেন, কাকে কোথায় নিয়োগ দেওয়া হবে, কে রিজেন্ট বোর্ডে থাকল আর কে থাকল না সেটা আমাদের ইন্টারনাল (অভ্যন্তরীণ) ব্যাপার। এ বিষয়ে তোমাদের ভাবতে হবে না, লিখতে হবে না।