মধুখালী (ফরিদপুর) সংবাদদাতা
মধুখালী উপজেলায় মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টি কম হওয়ায় পাট জাগ দিতে কিছুটা বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছিল পাটচাষিদের। পরবর্তীকালে পর্যাপ্ত বৃষ্টি হওয়ায় সেই সমস্যা কেটে যায়। সর্বশেষ অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এ বছর পাটের ফলন ভালো হয়েছে। আর বাজারে নতুন পাটের ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। এতে বেশ আনন্দিত তারা।
মধুখালী বাজারের পাট ব্যবসায়ী মো. পান্নু মোল্যা বলেন, মিলে প্রতিনিয়ত পাট নিলে পাটের দাম থাকবে। মিলমালিকরা পাট কেনা কমিয়ে দিলে দাম কমে যাবে। পাট কাটা মৌসুমের শুরুতেই দাম চড়া ছিল। পরে দাম কিছুটা কমে বিক্রি হয় ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা দরে। বর্তমানে এটি ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে অনেক কৃষক আরো বেশি দামের আশায় পাট ঘরে রাখছেন। উপজেলার আড়পাড়া ইউনিয়নের পূর্বআড়পাড়া গ্রামের পাটচাষি মো. আকরাম শেখ জানান, তিন বিঘা জমিতে পাট চাষ করতে তার খরচ হয়েছে ২৫ হাজার টাকা। ঐ জমিতে ২৫ মণ পাট হয়েছে। কয়েক মণ পাট ২ হাজার ৮০০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। আরো দামের জন্য কিছু পাট ঘরে রেখে দিয়েছেন।
উপজেলার মেগচামী গ্রামের চাষি মো. জিন্না মিয়া জানান, তিনি দুই বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছিলেন। এতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ১৬ হাজার টাকা। ঐ জমিতে প্রায় ১৮ মণ পাট হয়েছে। তিনি সেই পাট বাজারে নিয়ে প্রতি মণ ২ হাজার ৮০০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। এতে তার অনেক লাভ হয়েছে। কম খরচে, কম পরিশ্রমে বেশি লাভ হওয়ায় খুব খুশি তিনি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলভীর রহমান বলেন, চলতি বছর ৮ হাজার ৩৫২ হেক্টর জমিতে পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। আবাদ হয়েছে ৮ হাজার ৫৫৩ হেক্টরে। ভালো বীজ ও অনুকূল পরিবেশ থাকায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২০১ হেক্টর জমিতে বেশি পাট চাষ হয়েছে। দামেও কৃষকরা খুশি রয়েছেন। পাটের দাম এ রকম থাকলে আগামী বছর কৃষকরা আরো ব্যাপকভাবে পাট চাষে উদ্বুদ্ধ হবেন।