g আনোয়ার হোসেন
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আয়োজক হবে ওমান। গত জুনের আগ পর্যন্ত এমন কথা শুনলে হেসে উড়িয়ে দিতেন যে কেউই। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যেই দেশটা এখনো ঠিকমতো দাঁড়াতেই পারেনি, তারা কি না আয়োজন করবে চার-ছক্কার সবচেয়ে বড় আসর। সেটা হাস্যকর নয়তো কী। কিন্তু করোনা ভাইরাস বদলে দিল বাস্তবতা। মহামারির আকার ক্রমশ বেড়ে যাওয়ায় নিজেদের মাটিতে বিশ্বকাপের আয়োজন সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে ভারত। বিকল্প ভেন্যু হিসেবেই আগে থেকেই শোনা যাচ্ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাতের নাম। তবে তাদের সঙ্গে ওমানের নাম যুক্ত করে চমক দেয় ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা আইসিসি। শুধু তা-ই নয়, আরব উপকূলের দেশটিতে পর্দা উঠবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ষষ্ঠ আসরের।
প্রথম রাউন্ডে গ্রুপ ‘বি’ এর ছয়টি ম্যাচের সবকটিই ওমানের আল আমিরাত মাঠে। অথচ রাজধানী মাসকাট থেকে ১৮ কিলোমিটার দূরত্বের মাঠটিতে ১০ বছর আগেও ছিল না ঘাসের ছোঁয়া। বালিতে পরিপূর্ণ আউটফিল্ডের মধ্যখানে রাখা হয়েছিল সিমেন্টের পিচ। সেই মাঠটিই এখন ওমানের স্বপ্ন পূরণের হাতিয়ার। ২০০৮ সালে নির্মাণ শুরু হওয়া মাঠটি উদ্বোধন করা হয় ২০১২ সালের অক্টোবরে সাবেক বিসিবি সাধারণ সম্পাদক ও ততকালীন এসিসির প্রধান নির্বাহী সৈয়দ আশরাফুল হকের হাত দিয়ে ।
সবুজ ঘাস ও ফ্লাডলাইটের আলোয় এখন একটি পরিপূর্ণ ভেন্যুর মতোই লাগে আল আমিরাতে মাঠকে। চাইলে এখানে টেস্ট ম্যাচও আয়োজন করতে পারে ওমান। সে অনুমতি গত ফেব্রুয়ারিতেই দিয়েছে আইসিসি। বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বাড়ানো হয়েছে দর্শক ধারণক্ষমতা। যেখানে আগে ২০০ থেকে ৩০০ মানুষ খেলা দেখতে পারত, সেখানে এখন খেলা উপভোগ করবেন প্রায় তিন হাজার মানুষ। মোদ্দাকথা ক্রিকেটের মানচিত্রে নিজেদের ছাপ রাখতে সবকিছুই করে যাচ্ছে ওমান ক্রিকেট বোর্ড। অপেক্ষা শুধু ব্যাট-বলের লড়াইয়ের। ওমানে ক্রিকেটের চেয়ে ফুটবলে জনপ্রিয়তা বেশি। এশিয়ার অন্যতম সেরা শক্তিশালী দল, তাই ভক্তদের সেদিকে ঝুঁকে পড়াটাই স্বাভাবিক। তবু এক ক্রিকেট বিশ্বকাপের মধ্য দিয়ে নিজেদের দেশকে যেই উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে, সেটা হয়তো এতদিন ফুটবলও এনে দিতে পারেনি।
বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব পাওয়া স্টার স্পোর্টসের আইসিসির এই মেগা ইভেন্টটির সাক্ষী হতে পারেন সাড়ে ৩০০ কোটির মতো মানুষ। নিজের দেশকে বিশ্বের কোনায় কোনায় পৌঁছে দিতে এর চেয়ে ভালো উপায় আর কী হতে পারে। অন্তত ১০০ কোটি মানুষও যদি ওমানে অনুষ্ঠেয় খেলাগুলো দেখে সেটাও ওমানের জন্য বড় প্রাপ্তির। এমনটাই ভাবছেন ওমান ক্রিকেটের চেয়ারম্যান পঙ্কজ খিমজি।
যেভাবে যাত্রা শুরু ওমান ক্রিকেটের : মরুর দেশটিতে এক তৃতীয়াংশ লোকই বিদেশি কর্মী। যার বেশির ভাগই বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান। দেশটি ক্রিকেটের সুতোয় বাধা পড়েছে ঐ বিদেশিদের হাত ধরেই। ১৯৭৯ কনকসি খিমজিকে সভাপতি করে গঠিত ওমান ক্রিকেট বোর্ড। কয়েক মাস আগেই মারা যান আইসিসির আজীবন সদস্যপদ পাওয়া কনকসি। তার আগে ওমানের হয়ে ২০০০ সালে আইসিসির সদস্যপদ এবং ২০১৪ সালে সহযোগী সদস্যের পদ অর্জন করে যান তিনি।
২০১৫ টি-টোয়েন্টি স্ট্যাটাস পাওয়ার পরের বছরই বিস্ময়করভাবে ভারতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সুযোগ করে নেয় ওমান। প্রথম রাউন্ডে নিজেদের প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী আয়ারল্যান্ডকে দুই উইকেটে হারিয়ে চমকে দেয় তারা। পরে অবশ্য আর চমক দেখাতে পারেনি। বিদায় নেয় প্রথম রাউন্ড থেকেই। তবে এবারের আসরে সুপার টুয়েলভ খেলতে খুব আশাবাদী তারা।
বিশ্বকাপ আয়োজনে নাম লেখালেও ওমানে কেউই বলতে গেলে পেশাদার ক্রিকেট খেলে না। সবাই চাকরিজীবী। ক্রিকেটের জন্য ছুটি নিতে বেশ হ্যাপা পোহাতে হয়। তাতে ওমান ক্রিকেটেও কিছু সহায়তা। তবে ক্রিকেটকে পেশা হিসেবে ছড়িয়ে দিতে রুট লেভেলে কাজ করছেন তারা। বাবা কনকসির সেই স্বপ্নপূরণ নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন পঙ্কজ। এক বিশ্বকাপ আয়োজন করেই ওমানের ক্রিকেটের উপসংহারে টানতে চান না তিনি।